“চোরটাকে দেখতে এসেছি!” স্বরূপকে ফেডারেশনে আনতেই ফেটে পড়ল টেকনিশিয়ানদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ

টালিগঞ্জ: টলিপাড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং বিতর্কিত নাম স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে এবার ধুন্ধুমার কাণ্ড স্টুডিও পাড়ায়। সম্প্রতি সুরুচি সংঘ ক্লাবে তল্লাশির পর এবার পুলিশের নজরে ফেডারেশনের অফিস। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের স্বার্থে স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হাজির হয় পুলিশের একটি বিশেষ দল। সেখানে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফেডারেশনের অফিসে ঢোকার সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তালা পর্যন্ত ভাঙতে হয়। এদিকে স্বরূপ বিশ্বাসকে ফেডারেশনে নিয়ে আসার খবর ছড়াতেই সেখানে ভিড় জমান ক্ষুব্ধ টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীরা। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা রাগ উগরে দিয়ে এক টেকনিশিয়ান চেঁচিয়ে ওঠেন, “চোরটাকে দেখতে এসেছি!” অন্য এক কর্মী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এতদিন ধরে আমাদের জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে। আমাদের পরিবারগুলোকে শান্তিতে বাঁচতে দেয়নি। আজ ওকেই দেখতে এসেছি।”
সেখানেই শেষ নয়, এক হেয়ার স্টাইলিস্টের বিস্ফোরক অভিযোগ, “উনি এবং ওঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা, বিশেষ করে হেয়ার স্টাইলিস্ট গিল্ডের জয়শ্রী দাস যেভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে হয়রান করেছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এদের শাস্তি হতেই হবে। তবে ৫ তারিখেই ওঁর লোকেরা ফেডারেশন থেকে সব প্রমাণ লোপাট করে পালিয়েছে।”
অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই হওয়ার সুবাদে স্টুডিও পাড়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি এবং শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই নিউ আলিপুর থানার পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ায় যে ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, স্বরূপের এই হাল দেখে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ কলাকুশলীরা।