ফুটবলের মহারণ শুরু রাতজাগা বাঙালির, বিশ্বকাপ কি রাজনীতির বিষবাষ্পে মলিন হবে?

ফুটবলের মহারণ শুরু রাতজাগা বাঙালির, বিশ্বকাপ কি রাজনীতির বিষবাষ্পে মলিন হবে?

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মঞ্চে আবারও গড়িয়েছে বল। ষোলো বছর আগে জোহানেসবার্গের সেই রোমাঞ্চকর উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি হাতড়ে এবারও উদ্বোধনী লড়াইয়ে মুখোমুখি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে জোহানেসবার্গের পরিবর্তে এবারের যুদ্ধের ময়দান ইতিহাসের সাক্ষী অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের ছিয়ানব্বই বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে, যেখানে একটি পুরনো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ নতুন কোনো বিশ্বকাপে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কিন্তু মাঠের বল গড়ালেও মাঠের বাইরের উত্তাপ এবার চরমে।

রাজনীতির বেড়াজালে ফুটবল

২০১০ সালের আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে সেবার যে সংশয় ছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে আয়োজক দেশ আমেরিকাকে ঘিরে। দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবলকে জয়ী করতে পারলেও, ট্রাম্পের আমেরিকা কি পারবে রাজনীতি-মুক্ত ফুটবলের আবহ বজায় রাখতে? বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতি ফুটবল মহাযজ্ঞে কালো মেঘ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানি ক্রীড়ামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি—ম্যাচ চলাকালীন সরকারবিরোধী স্লোগান দিলে দল প্রত্যাহার করে নেবে ইরান। এছাড়া সোমালিয়ার রেফারিকে কেন্দ্র করে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবারের টুর্নামেন্টকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তারকাসমাবেশেও শেষবারের রূপকথা

এতসব ঝঞ্ঝাটের ভিড়েও ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঠের নক্ষত্ররা। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, নেইমার থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপে কিংবা তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল—কাঁপন ধরানোর মতো তারকার অভাব নেই এবার। বিশেষ করে মেসি-রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিদের জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, যা ফুটবল দুনিয়ার কাছে এক আবেগের নামান্তর। নতুন ও পুরনো কোচের লড়াই আর ফুটবলীয় দক্ষতার প্রদর্শনীতে কি শেষ পর্যন্ত রাজনীতি হার মানবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী দেড় মাসের রাতজাগা প্রতিটি ম্যাচে। সকল সমীকরণ আর রাজনৈতিক সমাচার ছাপিয়ে ফুটবলই এখন একমাত্র ঈশ্বর, যা পৃথিবীকে আবারও একসূত্রে বাঁধার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *