রাজনীতিতে মেগা টুইস্ট! মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতাকেও ‘ছাড়তে’ রাজি শত্রুঘ্ন? জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ভাঙনের মাঝেই এবার সবথেকে বড় চমক। কীর্তি আজাদ, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়াদের মতো একঝাঁক তারকা সাংসদ যখন ইতিমধ্যেই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তখন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ তথা বলিউড অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহাকে নিয়েও শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া বিদ্রোহীদের চিঠিতে এখনও পর্যন্ত সই করেননি ‘বিহারী বাবু’। তবে তিনি সই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত, তবে তার জন্য রেখেছেন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
এদিকে এই চরম জল্পনার মাঝেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শত্রুঘ্ন। মোদীর দীর্ঘতম কার্যকালের প্রশংসা করে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। আর এর পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার ডিগবাজি খেতে চলেছেন শত্রুঘ্ন সিনহাও?
যদিও এই জল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে পাটনায় হেরে যাওয়ার পর যখন কঠিন সময় চলছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশেই আসানসোল থেকে লড়ে দু-দুবার সাংসদ হয়েছেন। শত্রুঘ্নর কথায়, “সত্যি কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তবে আমি বিদ্রোহী। কিন্তু মমতাজি আমার কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাই আজ তাঁর কঠিন সময়ে তাঁকে ত্যাগ করা আমার নীতিতে আটকায়।”
উল্লেখ্য, ৬৪ জন বিধায়কের পর এবার ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। যার মধ্যে মমতা-ঘনিষ্ঠ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক এবং ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং দেব এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহীদের সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি। কিন্তু শত্রুঘ্নর এই নয়া ‘শর্ত’ এবং মোদী-বন্দনা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।