১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণে তিনিই অপরিহার্য’

১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণে তিনিই অপরিহার্য’

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১১ জুন একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন। ২০০৮ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৩৩১ দিনের বন্দিজীবন শেষে মুক্তি পেয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হাসান রিপনের মতে, এই দিনটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীর কারামুক্তির দিন নয়, এটি ছিল মূলত বাংলাদেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস। তাঁর মুক্তির মধ্য দিয়েই পরাস্ত হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের অগণতান্ত্রিক শক্তি, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনীতিকে নেতৃত্বশূন্য করা।

আজকের প্রজন্মের কাছে ওয়ান-ইলেভেন হয়তো ইতিহাসের একটি অধ্যায় মাত্র, কিন্তু তৎকালীন ছাত্র ও যুবসমাজের কাছে এটি ছিল এক জীবন্ত সংগ্রাম। ২০০৬ সালের শেষদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার উদ্দেশ্যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার উদ্যোগ নিলে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সেই সংকটকে পুঁজি করে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবং ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে।

খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই সরকারের মূল টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। ওয়ান-ইলেভেনের সেই অবৈধ সরকার রাজনীতি থেকে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে সান্ধ্য আইন ও সেনা-সন্ত্রাস উপেক্ষা করে অহিংস আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান শেখ হাসিনা।

নেত্রীর মুক্তির পরই দেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং দেশ পুনরায় সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে। এরপরের ইতিহাস কেবলই অগ্রগতির। শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছায়।

তবে মাহমুদ হাসান রিপন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী ইউনুস গং এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কারণে দেশের মানুষ আজ চরম সংকটে। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনায় শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ ভূলুণ্ঠিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিপফেকের মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বুঝতে পেরে মানুষ এখন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে যে, যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনাই ছিলেন দেশের অদ্বিতীয় ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’।

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেই আওয়ামী লীগ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একজন গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে লেখক দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীর স্মার্ট রাজনৈতিক লড়াইয়ে আধুনিক ও তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্থিতিশীলতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবনে শেখ হাসিনাই অপরিহার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *