২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য, নীতি আয়োগের বৈঠকে রাজ্যগুলিকে একজোট হওয়ার ডাক মোদীর

নয়াদিল্লি: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক উন্নত রাষ্ট্র বা ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তুলতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে নীতি আয়োগের একাদশ (১১তম) গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এবারের বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’।
এই প্রথমবার নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে দেশের ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই একসঙ্গে অংশ নিলেন। এছাড়াও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং প্রশাসকরাও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, “আমরা সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয়তার (cooperative federalism) প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা আবারও জানিয়েছি, কারণ আমাদের সরকার বিশ্বাস করে যে জাতীয় অগ্রগতিতে রাজ্যগুলি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মূল বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
- তরুণ প্রজন্মই দেশের আসল শক্তি: প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ভারতের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৭০ কোটি মানুষের বয়স ২৫ বছরের কম। এই বিপুল যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-কে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে রাজ্যগুলিকে শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দিতে বলেন তিনি।
- নারী শক্তির ক্ষমতায়ন: নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘লাখপতি দিদি’র সংখ্যা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
- বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও ভারতের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। মোদী রাজ্যগুলিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং যুবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে বলেন। ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ODOP) উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি।
- কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জল সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ও জৈব চাষে জোর দিতে বলেন। এছাড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ক্ষেত্রটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজ্যগুলিকে সেই অনুযায়ী নীতি তৈরির আহ্বান জানান।
- সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: মাদকাসক্তি এবং সাইবার জালিয়াতির মতো সামাজিক ব্যাধি রুখতে সচেতনতামূলক প্রচার ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসকরা বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং ভারতের অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের কার্যকাল সফলভাবে পূর্ণ করার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানান তাঁরা। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী এই আলোচনাকে অত্যন্ত গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের অগ্রগতির যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করার আশা প্রকাশ করেন।