মার্কিন ‘হেলফায়ার’ মিসাইলে ওমানে ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু! রণং দেহি মেজাজে আমেরিকার দূতকে তলব নয়াদিল্লির

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (West Asia Crisis) মাঝেই ওমান উপকূলে মার্কিন সেনার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারালেন ৩ ভারতীয় নাবিক। ওয়াশিংটনের এই হঠকারী ও নির্লজ্জ স্বীকারোক্তির পরই আমেরিকার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ল নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই বেনজির হামলার ঘটনার জেরে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে (Jason Meeks) সাউথ ব্লকে তলব করে কড়া হুঁশিয়ারি দিল বিদেশ মন্ত্রক।
চলতি সপ্তাহে ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিক বোঝাই পরপর তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সেনা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে পালাউয়ের পতাকা লাগানো ‘এমটি সেত্তেবেলা’ (MT Settebello) জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। হামলার পর ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও চিফ ইঞ্জিনিয়ার পত্নালা সুরেশ, ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া নামের ৩ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। পরে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই কূটনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে।
চাপের মুখে আমেরিকার ‘নির্লজ্জ’ স্বীকারোক্তি:
এদিকে ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) সরকারিভাবে স্বীকার করেছে যে, ওমান উপকূলে ‘এমটি জলবীর’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে ওরাই দুটি শক্তিশালী ‘হেলফায়ার’ (Hellfire) মিসাইল ছুড়েছিল। আমেরিকার এই দাবির পরেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ।
১০ জুনের পর ফের মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে পাঠিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ডেমার্শে (Diplomatic Demarche) জারি করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অজুহাতে আন্তর্জাতিক নৌপথে অসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে এই ধরণের কাপুরুষোচিত আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক যতই মজবুত হোক, দেশের নাগরিকদের জীবনের প্রশ্নে নয়াদিল্লি যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, মার্কিন দূতকে তলব করে তা বুঝিয়ে দিল মোদী সরকার।