সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি সফর, রোজ ৫০০-৭০০ টাকা লোকসানে ধুঁকছে বেসরকারি বাস!

রাজ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মেনে সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াতের সুযোগ চালু হওয়ায় মহিলা যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই সেই পরিষেবার দিকে ঝুঁকছেন। ফলস্বরূপ, বেসরকারি বাসগুলিতে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে এবং প্রতিদিন প্রতিটি বাসে গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
লোকসানের ধাক্কা সামলাতে ‘কিলোমিটার স্কিম’-এর দাবি
রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থার প্রায় ৮৫ শতাংশ যাত্রীর মূল ভরসা এখনও বেসরকারি বাস। কিন্তু বিনামূল্যে সরকারি বাসে সফরের সুবিধা চালু হওয়ায় বেসরকারি বাসের রোজগারে বড়সড় টান পড়েছে। বাস মালিক সংগঠনগুলির দাবি, মা ও মেয়ের প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার মতো নিত্যদিনের ভাড়ার আয় থেকে এখন তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে লোকসান ঠেকাতে বেসরকারি পরিবহণ শিল্পের তরফে সরকারকে ‘কিলোমিটার স্কিম’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক নিয়োগের দায়িত্ব মালিকদের হাতে থাকলেও, বাসগুলি সরকারি পরিবহণ নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হবে। সরকারি কন্ডাক্টর ভাড়া সংগ্রহ করবেন এবং সরকার বাস মালিকদের প্রতি কিলোমিটার চলাচল অনুযায়ী নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেবে। এতে সরকার ও বেসরকারি অপারেটর উভয়েরই লাভ হবে বলে মনে করছেন বাস মালিকরা।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অপরিবর্তিত ভাড়ায় গভীর সঙ্কট
মহিলা যাত্রীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম বেসরকারি বাস পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বাস মালিকদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি, অথচ শুধু মে মাসেই ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। শিলিগুড়ি-কোচবিহার বা হাওড়া থেকে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের মতো যেসব রুটে সরকারি বাসের আধিক্য রয়েছে, সেখানে বেসরকারি বাসের যাত্রী কমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। পরিবহণ সংগঠনগুলি জানিয়েছে, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার সরকারি নীতিতে তাদের কোনও আপত্তি নেই, তবে ক্রমবর্ধমান পরিচালন খরচ ও যাত্রী হ্রাসের জোড়া ধাক্কা সামলাতে অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপ ও উপযুক্ত নীতির প্রয়োজন।