তীব্র গরমে স্বস্তি, সন্ধের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস!

টানা তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আর্দ্রতার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন রাজ্যবাসী। বাংলায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এখন অনেকটাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টির কারণ
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতজুড়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং বাংলাদেশের উপকূল ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্তের কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জাঁকিয়ে বসা আবহাওয়ার হাত ধরেই রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় প্রবেশ করেছে বর্ষা। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজ্যের বাকি অংশটুকুও বর্ষার আওতায় চলে আসবে বলে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সিস্টেমগুলোর সম্মিলিত প্রভাবেই মূলত রাজ্যজুড়ে এই ব্যাপক বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কোন কোন জেলায় সতর্কতা ও প্রভাব
কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় আজ সন্ধের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া। মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তার প্রভাব ইতিমধ্যেই গত চব্বিশ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও মালদহে ৬৬ মিলিমিটার করে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বর্ধমানে ৬০, বাঁকুড়ায় ৩২ এবং ঝাড়গ্রামে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাতসহ দমকা হাওয়া বইবে। এর ফলে দিনের তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি থেকে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন। এছাড়া আগামী সপ্তাহান্তে বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।