জোড়াফুলে চওড়া হচ্ছে ফাটল! এবার কি বিদ্রোহী শিবিরে মহুয়া?

তৃণমূল কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ, কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মহুয়া মৈত্র কি এবার দলের মূল স্রোত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও, বাসুনিয়া জানিয়েছেন রাজনীতিতে কোনও কিছুই আসাম্ভব নয়। অতীতে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি মহুয়ার সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আনা তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পরেই জল্পনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্রোহের কারণ
দলের বর্তমান এই সংকটের জন্য মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছেন বাসুনিয়া। তাঁর অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়, যা অনেকাংশেই দুর্নীতিগ্রস্ত। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও প্রবীণ নেতাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানায় রেখে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই বিদ্রোহের জন্ম। এমনকি, নিজের বিপদের দিনে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সাহায্য না পাওয়ার পুরনো আক্ষেপও তুলে ধরেছেন এই সাংসদ।
সংসদে আলাদা গোষ্ঠীর পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিদ্রোহী সাংসদরা তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে লোকসভায় একটি স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ১৪ জন সাংসদকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে, যেখানে সায়নী ঘোষের মতো নেতারাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্পিকারের কাছে এই নতুন গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চাওয়া হবে, যার নেতৃত্বে থাকতে পারেন কোনও প্রবীণ সাংসদ। অন্যদিকে, সাংসদ কীর্তি আজাদের তোলা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও কড়া ভাষায় খারিজ করেছেন বাসুনিয়া। শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও মানভঞ্জনের চেষ্টা না হওয়ায় এই বিভাজন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো এবং জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হচ্ছে।