হাতে নেই সিঙ্গুরের জমি, তবু টাটাদের ফেরাতে বড় চমক শুভেন্দুর!

বিধানসভা ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিঙ্গুরে শিল্প ফেরাতে বদ্ধপরিকর বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, টাটা গোষ্ঠীকে ফের বাংলায় ফিরিয়ে আনা হবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির মালিকানা। পূর্বতন সরকার সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দিলেও সেখানে চাষাবাদ বা বিকল্প কোনও কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, মাটিতে মিশে থাকা টাটাদের কারখানার রড ও সিমেন্টের জেরে জমির প্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে, যা বর্তমানে কৃষিকাজ বা মাছ চাষ— সবকিছুর জন্যই একেবারে অনুপযুক্ত।
শিল্প ফেরাতে বিশেষ টিম ও টাটাদের নিয়ে পরিকল্পনা
এই জটিল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটাতে অভিজ্ঞ নেতা ও পাঁচবারের বিধায়ক তাপস রায়কে শিল্প দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের শুধুমাত্র ছবি তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রকৃত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে শিল্প সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দল যাবতীয় প্রস্তাব খতিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, দায়িত্ব নিয়েই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম লক্ষ্যই হলো টাটাদের ফিরিয়ে আনা এবং বিগত ১৫ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েক হাজার কারখানা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা।
দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গুরের জমি পতিত পড়ে থাকা এবং শিল্পখাতে রাজ্যের পিছিয়ে পড়ার কারণেই বর্তমান সরকার এই আগ্রাসী শিল্পনীতি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ সফল হলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কাঠামোতেও বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। টাটাদের প্রত্যাবর্তন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত করতে আগামী রাজ্য বাজেটেও শিল্পখাতে বেশ কিছু বড় ঘোষণার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।