সম্মান না পেলে তৃণমূলে আর নয়, দিদির একাকীত্ব নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত!

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের সুর আরও তীব্র হলো। বীরভূমের দাপুটে ও একসময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডলের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর যেভাবে একের পর এক পুরনো নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন, সেই স্রোতেই সামিল হয়েছেন তিনি। বীরভূমের এই দাপুটে নেতা সাফ জানিয়েছেন, দলে যথাযথ সম্মান না পেলে তিনি আর তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন না।
আইপ্যাকের দৌরাত্ম্য ও ক্ষোভের কারণ
দলের এই করুণ অবস্থার জন্য ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে তীব্র আক্রমণ করেছেন অনুব্রত। তাঁর মতে, ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে ঘাসফুল শিবিরকে যারা তিল তিল করে টেনে তুলেছিল, সেই পুরনো কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বাইরের সংস্থাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে আসা এই কুশলীদের জন্যই দলের আজ এই ভরাডুবি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি, অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্তকেও দলের একটি বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মমতার বিচ্ছিন্নতা ও বিদ্রোহীদের ভবিষ্যৎ
দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি মন্তব্য করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দলে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাদের পৃথক ফ্রন্ট গড়ার উদ্যোগকে তিনি ভুল মনে করছেন না এবং সেই বিদ্রোহী নেতাদের পদক্ষেপকেও তিনি প্রকারান্তরে সমর্থন জুগিয়েছেন। স্পষ্ট করেছেন, সম্মানহানি হলে তিনি চুপচাপ থাকবেন, তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথা এই মুহূর্তে ভাবছেন না।
এই বিদ্রোহ ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বীরভূমের মতো শক্তিক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডলের মতো প্রভাবশালী নেতার ক্ষোভ ও নিষ্ক্রিয়তা শাসকদলের জন্য আগামী দিনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও জনসমর্থন হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।