ইডির মামলাতেও মিলল স্বস্তি, এবার পুরোপুরি জেলমুক্ত হচ্ছেন নিয়োগ দুর্নীতির ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়!

রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বড়সড় স্বস্তি পেলেন মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন কুমার রায়। সিবিআইয়ের পর এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দায়ের করা আর্থিক তছরুপের মামলাতেও তাঁর শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত তথা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে আগেই জামিন পেয়েছেন। ফলে এই মামলায় প্রসন্নকে আর দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে আটকে রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। এর ফলে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
জামিনের কড়া শর্ত ও আইনি প্রভাব
উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রসন্ন রায়ের জামিন মঞ্জুর হলেও নিম্ন আদালতে ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে এই স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত তাঁর ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত থাকলেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন তদন্তকারী আধিকারিকের (আইও) সঙ্গে দেখা করতে হবে প্রসন্নকে। পাশাপাশি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা, প্রমাণ নষ্ট না করা এবং সাক্ষীদের কোনওভাবেই প্রভাবিত না করার কড়া নির্দেশ রয়েছে। মূলত মূল অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার আইনি নজিরই এই মামলায় দীর্ঘদিন আটকে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের মুক্তির পথ তৈরি করে দিচ্ছে।
কোটি কোটি টাকার উৎস ও ইডির তদন্ত
তদন্তের শুরুতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রসন্ন কুমার রায়ের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, প্রসন্নের বিভিন্ন ভুয়ো বা শেল কো ম্পা নির অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। এই বিপুল অর্থের উৎস হিসেবে প্রসন্ন ইডির কাছে দাবি করেছিলেন যে, এই অর্থ সম্পূর্ণটাই কৃষিকাজ থেকে উপার্জিত। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর এই ‘কৃষি তত্ত্ব’ মানতে নারাজ। এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জারি থাকলেও, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি সমতার খাতিরেই শেষ পর্যন্ত আদালত প্রসন্ন রায়ের এই আইনি প্রতিকার মঞ্জুর করল।