আলিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ইভিএম ও বন্যপ্রাণীর দেহাংশ ভস্মীভূত, নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের শঙ্কা

আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সদর দফতরে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগুনে কয়েক হাজার ইভিএম এবং চোরাশিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীর পোড়া দেহাংশ ভস্মীভূত হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনার নেপথ্যে বড়সড় ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দানা বাঁধছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটাবেস মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই নাশকতা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ
সূত্রের খবর, আলিপুরের ওই ভবনে প্রায় ৪ হাজার ব্যালট ইউনিট, ৪ হাজার কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪ হাজার ভিভিপ্যাট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই মেশিনগুলি মূলত কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব-পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ, সাতগাছিয়া ও ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অধিকাংশ বিধানসভার। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত সিইও এবং ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন এবং ঘটনা সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি, আগুনের চরিত্র নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, চার ও পাঁচ তলায় আগুন লাগার পর তা মাঝের তলাগুলি এড়িয়ে সরাসরি নয় ও দশ তলায় কীভাবে পৌঁছে গেল, তা অত্যন্ত রহস্যজনক এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে।
নথিপত্র ও তথ্য নষ্টের চক্রান্তের আশঙ্কা
ভবনের একাধিক আলমারিতে বাঘ ও হরিণের চামড়া, কুমিরের দাঁতসহ বন্যপ্রাণীর নানা দেহাংশ সংরক্ষিত ছিল, যা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার চোরাশিকারিদের ডেটাবেস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অগ্নিকাণ্ডে জেলা পরিষদের অফিস এবং অতিরিক্ত জেলাশাসকের অফিসের বিভিন্ন ফ্লোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই প্রভাবশালী নেতার অফিসও। তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে ভবনের মাঝের ছয়, সাত এবং আট তলা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকার বিষয়টি। ওই তিনটি ফ্লোরে আগুনের কোনো চিহ্ন না থাকলেও সিঁড়ি বেয়ে আগুন ওপরের ফ্লোরগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব এবং জলের উৎসের সংকটে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিপত্র ও নির্বাচনী তথ্য ধ্বংস করতেই এই পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।