রাজ্যের সিদ্ধান্তে কাটল জট, বেলডাঙা মামলায় এনআইএ তদন্তে আর বাধা নেই!
.jpg.webp?w=800&resize=800,533&ssl=1)
দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে বেলডাঙা মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তদন্তের পথ প্রশস্ত হল। পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এনআইএ তদন্তে আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে আবেদন করা হয়েছিল, বর্তমান রাজ্য সরকার তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়ল এবং তদন্তের ক্ষেত্রে কার্যত সমস্ত আইনি বাধা দূর হল।
তদন্তে গতি ও আইনি জট মুক্তি
বেলডাঙা কাণ্ডে কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ রুখতে পূর্ববর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দ্বারস্থ হয়েছিল। সেখান থেকে মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে আসে। শুক্রবার হাইকোর্টে বর্তমান রাজ্য সরকারের এই আবেদন প্রত্যাহারের ফলে এনআইএ-র তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা রইল না। এই সিদ্ধান্তের ফলে তদন্তকারী সংস্থা তাদের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া অবস্থান থেকে বর্তমান সরকারের এই সরে আসা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জামিন বিতর্ক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তে জট কাটলেও, বর্তমানে ইউএপিএ (UAPA) ধারা যুক্ত হওয়া এবং নিম্ন আদালতে অভিযুক্তদের জামিন বাতিলের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হাইকোর্টে চলবে। এর আগে এনআইএ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়, এনআইএ-র বিশেষ আদালত ৩৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৫ জনকে জামিন দিয়েছিল। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অমান্য করে জামিন দেওয়া হয়েছে যা এই ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থের পরিপন্থী।
আগামী ৩০ জুন কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন এনআইএ-কে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা কঠোর ইউএপিএ ধারা বহাল থাকবে নাকি তা লঘু করা হবে।