‘আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না!’ পার্ক সার্কাস কাণ্ডের স্মৃতি উসকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। এবার ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের উদ্দেশে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখালে তার পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক হবে।
ভাতের হাঁড়ির চাল টেপার চেষ্টা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ভাতের হাঁড়ির চাল টেপার মতো’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরীক্ষা নেওয়ার দুটি চেষ্টা হয়েছিল, যার অন্যতম ছিল পার্ক সার্কাস। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরপরই রাজ্যে পশু বলি সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-ঢিল ছোড়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরই চরম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসন।
সংবিধানে অবিচল নবান্ন
পার্ক সার্কাসের ঘটনার পর দ্রুত ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, এরপর থেকে আর কাউকে এ ধরনের কাজ করতে দেখা যাবে না, আর যদি হয় তবে তাঁর চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর সরকার কোনওভাবেই তোষণ নীতি বা আইনহীনতাকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি সংখ্যালঘু বিরোধী নন, বরং দেশের সংবিধান মেনে কড়া হাতে প্রশাসন চালাতে বদ্ধপরিকর। পার্ক সার্কাসের পর রাজ্যে নতুন করে কোনও অশান্তি মাথাচাড়া না দেওয়াকে নতুন ক্যাবিনেটের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।