মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর, বেঁচে থেকেও প্রতিদিন তিলে তিলে মরছেন বিশ্বাস!

মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর, বেঁচে থেকেও প্রতিদিন তিলে তিলে মরছেন বিশ্বাস!

গত বছরের ১২ জুন আমদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ওড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই-১৭১। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু এবং কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা ১৯ জন সাধারণ মানুষসহ মোট ২৬০ জন। গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ এই বিমান বিপর্যয়ের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি হিসেবে বেঁচে ফিরেছেন ৪০ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ।

জীবিত থাকার অভিশাপ ও মানসিক যন্ত্রণা

ধ্বংসস্তূপ থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বেরিয়ে আসার ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুললেও, গত ৩৬৫ দিন ধরে এক জীবন্ত নরকের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বাস। চোখের সামনে আস্ত বিমান ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের ভাই অজয় কুমার রমেশসহ শত শত মানুষের মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। শারীরিক ক্ষত সেরে উঠলেও তীব্র আতঙ্ক, অনিদ্রা আর ডিপ্রেশনের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করছেন তিনি। স্বজন হারানোর পাশাপাশি ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে করা মাছের ব্যবসায় ধস নামায় চরম আর্থিক অনিশ্চয়তাও তাঁর জীবনকে আরও জটিল করে তুলেছে। মানুষের কৌতূহল ও প্রচারণার আড়ালে তিনি আজ এক তীব্র অপরাধবোধ ও একাকীত্বে ভুগছেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মাথায় চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও এই স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও অন্তত দু’মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল, আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরপরই বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে ফুয়েল নিয়ন্ত্রণের প্রধান সুইচগুলি ‘রান’ মোড থেকে ‘কাট অফ’ মোডে চলে যাওয়ার ফলেই দুটি ইঞ্জিনে জ্বালানি পৌঁছায়নি এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গতি হারিয়ে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। পুরো প্রক্রিয়ার ফলাফল জনসমক্ষে নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *