‘সবটা দিতে না পারলে চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর!

প্রায় দেড় দশক ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের ভরসার সমার্থক ছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকাই ৩৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন কিউয়ি কিংবদন্তি কেন উইলিয়ামসন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই তাঁর এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় ক্রিকেট মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টই হয়ে রইল তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ।
স্বেচ্ছাবসর ও নেপথ্যের কারণ
দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনা শেষে নিজের শর্তেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের হয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার জন্য যে অদম্য তাগিদ প্রয়োজন, তাতে কিছুটা ঘাটতি অনুভব করছিলেন তিনি। নিজের প্রতি সৎ থেকে উইলিয়ামসন স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজের ১০০ শতাংশ না দিতে পারলে খেলা চালিয়ে যাওয়া অনুচিত। ব্যক্তিগত তৃপ্তি নিয়ে মাথা উঁচু করে বিদায় নিলেও সিরিজের মাঝপথে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিউজিল্যান্ডের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে সম্ভাব্য প্রভাব ও শূন্যতা
২০১০ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেকের পর থেকে কিউয়ি ক্রিকেটের মূল ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন উইলিয়ামসন। ১৯,৩৪৬ রান ও ৪৮টি আন্তর্জাতিক শতরান সহ তিনি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বেই ২০২১ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য। তাঁর এই বিদায়ে দলের টপ ও মিডল অর্ডারে যেমন এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হল, তেমনই আগামী দিনের কঠিন টুর্নামেন্টগুলোতে দল হারাল এক স্থিতধী পথপ্রদর্শককে। ড্রেসিংরুমে তাঁর শৃঙ্খলাপরায়ণ উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতার অভাব নিউজিল্যান্ডকে আগামী দিনে ভোগাতে পারে, যা পূরণের গুরুদায়িত্ব এখন তরুণ প্রজন্মের কাঁধে।