জমি নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, বাংলায় শিল্প প্রসারে মিলবে না বাধা!

জমি নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, বাংলায় শিল্প প্রসারে মিলবে না বাধা!

নতুন সরকারের পত্তনের পর থেকেই রাজ্যে শিল্প ও লগ্নির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা থাকলে পশ্চিমবঙ্গে জমি কোনোদিনই কোনো বাধার কারণ হবে না। রাজ্যের শিল্পায়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষ নিজেরাই এগিয়ে এসে দু’হাত ভরে জমি দেবেন বলে তিনি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।

আইনসম্মত ও স্বচ্ছ জমি অধিগ্রহণ

জমি কেনা এবং হস্তান্তরের আইনি দিকটি স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৮৯৪ সালের সংশোধিত আইন মেনেই বর্তমানে রাজ্যে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি মালিকানাধীন নয় এমন জমিও রাজ্য সরকার কিনে নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য হস্তান্তর করছে, যার সম্পূর্ণ অর্থ বহন করছে ভারত সরকার। জাতীয় সড়ক, রেল সম্প্রসারণ কিংবা সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজে সাধারণ মানুষ দেশের প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকেই স্বেচ্ছায় ও নির্ধারিত মূল্যে জমি তুলে দিচ্ছেন।

অতীতের সংঘাতের রাজনীতি পেরিয়ে নতুন দিগন্ত

বাম আমলের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের গুলিচালনা কিংবা পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের শিল্পবিরোধী নীতি ও তালাচাবির সংস্কৃতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, জোরজুলুমের দিন শেষ। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে পিঠে লাঠি খাওয়ার বা ফাইল লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের মতো অন্যান্য রাজ্য যখন উন্নতির শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন বাংলার যুবকদের পরিযায়ী হওয়ার যন্ত্রণা ও ক্ষোভ প্রশমন করাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

মূলত রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব এবং বিগত দশকগুলোতে শিল্পায়নের স্থবিরতা থেকেই এই নতুন জমি নীতির সূচনা হয়েছে। এই নীতির সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরা এবং দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাংলার অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *