সায়নী থেকে অভিষেককে তুলোধোনা! বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ তাপসের

শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। সায়নী ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—একের পর এক তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন তিনি। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে তাঁর এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
কল্যাণের আলটিমেটাম ও অভিষেকের জেলযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়েই এদিন কটাক্ষ করেন তাপস রায়। কল্যাণের ‘হয় আমায় বাছুন, না হয় অভিষেককে’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারের পক্ষেই দাঁড়াবেন এবং কল্যাণকে বেছে নেবেন না। কল্যাণের বাকসর্বস্ব স্বভাব এখন দলের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্নীতির ‘মধ্যমণি’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, গোটা বঙ্গবাসী তাঁর জেলযাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে। শাসকদলের এই প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কংগ্রেসকে সতর্কবার্তা ও বিদ্রোহীদের চিঠি
তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্ভাব্য জোট জল্পনা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন এই বিজেপি নেতা। তিনি সতর্ক করে জানান, তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলালে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাবে আরও বড় সর্বনাশ হবে। অন্যদিকে, দলের নির্দেশ অমান্যকারীদের বাড়ি ভাঙার হুমকি দেওয়া তৃণমূল নেতা কীর্তি আজাদকে বাংলার ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে অজ্ঞ বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তাপস। পাশাপাশি, বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের স্পিকারকে দেওয়া ‘সাদা কাগজের’ চিঠি প্রসঙ্গে তিনি পুরো বিষয়টি স্পিকারদের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। বিরোধীদের এই ক্রমাগত চাপ এবং দলের অভ্যন্তরে মাথাচাড়া দেওয়া এই বিদ্রোহ আগামী দিনে শাসকদলের জন্য বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে চলেছে।