বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্তি! বাংলার কর্মসংস্থানে শুভেন্দুর যুগান্তকারী ‘ত্রিফলা’ দাওয়াই

বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্তি! বাংলার কর্মসংস্থানে শুভেন্দুর যুগান্তকারী ‘ত্রিফলা’ দাওয়াই

বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর যুবসমাজের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মসংস্থান। বিগত দিনে কর্মক্ষেত্রের অভাব ও নিয়োগে দুর্নীতির কারণে যুবসমাজ যেভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিল, তার স্থায়ী অবসান ঘটানোই নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে এবং রাজ্যকে সম্পূর্ণ বেকারশূন্য করতে এক বৈপ্লবিক রোডম্যাপের কথা খোলসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারতের অন্যান্য সফল রাজ্যের অর্থনৈতিক মডেলকে সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সদিচ্ছা ও সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে বাংলার বেকার সমস্যার সমাধান কেবল সম্ভবই নয়, বরং রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াও সময়ের ব্যাপার। সেই লক্ষ্যেই এবার রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে কর্মসংস্থানের মেগা ‘ত্রিফলা’ কার্যক্রম।

কর্মসংস্থানের নতুন দিশা: ‘ত্রিফলা’ অ্যাকশন প্ল্যান

দেশের যে সমস্ত রাজ্য বেকারত্ব প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, তাদের কর্মসংস্থান কৌশল বিশ্লেষণ করে বাংলাতেও তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, রাজ্য সরকারের সমস্ত স্তরের শূন্যপদ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ— নিয়োগ দুর্নীতির কালো অধ্যায় মুছে ফেলে কেবল যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদেরই সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) শিল্পকে চাঙ্গা করতে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি ভর্তুকি বা সাবসিডি দিয়ে ব্যাক-আপ দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, ভারী শিল্পের পাশাপাশি ফুড প্রসেসিং, হর্টিকালচার এবং ফিশারির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে আধুনিক প্রসেসিং ইউনিট গড়ে তোলা হবে, যা গ্রামীণ ও শহরতলির অর্থনীতিকে রাতারাতি বদলে দেবে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

এই ত্রিফলা অ্যাকশন প্ল্যান সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞ মহল। কর্মসংস্থানের অভাবে রাজ্যের যে যুবসমাজ ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিল, এই পরিকল্পনার ফলে তারা নিজেদের মাটিতেই সসম্মানে কাজ ফিরে পাবেন। যুবকদের পরিযায়ী তকমা ঘুচে যাওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বা রেভিনিউও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বর্ধিত এই রাজস্বের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আগামী দিনে বাংলা উন্নয়নের এক নতুন সোনালী অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রশাসনের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *