রাত ১১টার পর জাগলেই বিপদ! মহিলারা কেন জলদি ঘুমোতে যাবেন, জানালেন চিকিৎসক

রাত ১১টার পর জাগলেই বিপদ! মহিলারা কেন জলদি ঘুমোতে যাবেন, জানালেন চিকিৎসক

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি—এই নিয়ম আমরা সবাই জানি। কিন্তু জানেন কি, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি ঘুমের প্রয়োজন? চিকিৎসকদের মতে, মহিলাদের অন্তত ১১ মিনিট বেশি ঘুমোনো দরকার। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের চক্করে মহিলারা সবচেয়ে কম বিশ্রাম পান। ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মহিলাই অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন, যা তাঁদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মহিমা কাক নাগপাল জানিয়েছেন, নারীদের হরমোনের ভারসাম্য, মেটাবলিজম এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি মহিলাদের প্রতিদিন রাত ১১টার আগে ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ঘুমের অভাব শরীরে কী ক্ষতি করে?

আমাদের শরীরের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে শরীরের ভেতরের ‘জৈবিক ঘড়ি’ বা সার্কাডিয়ান রিদমের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রাত জাগলে:

  • ডিম্বস্ফোটনে (Ovulation) সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শরীরে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং প্রজনন সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়।

রাত ১১টার আগে ঘুমোলে মেলাটোনিন, ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকে।

সময় বজায় রাখা কেন জরুরি?

রাত ১১টার আগেই ঘুমোতে হবে এমন কোনও কড়া নিয়ম নেই, তবে ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় বা রুটিন থাকা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি প্রতিদিন রাত ১২টায় ঘুমোন, তবে রোজ সেই সময়টাই বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তবে রাতের দিকে যত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া যায়, শরীরের পক্ষে ততই মঙ্গল। সুস্থ থাকতে আজ থেকেই নিজের ‘স্লিপ হাইজিন’ বা ঘুমের অভ্যাসে বদল আনুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *