দলের ভরাডুবির পর বিস্ফোরক অনুব্রত! তৃণমূলের অন্দরে কাঠগড়ায় আইপ্যাক

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয়ের এক মাস পর দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার দলের নির্বাচনী কৌশল ও শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর নিশানায় মূলত দলের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক এবং পরোক্ষভাবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভবিষ্যৎ বিভাজনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ
দলের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে অনুব্রত সরাসরি আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনীতির বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা না থাকা এই সংস্থাটি জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত ব্যাপক হারে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, দলের প্রতিষ্ঠালগ্নে তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল সাধারণ ও নিচুতলার কর্মীদের হাত ধরেই, কোনো পেশাদার সংস্থার সাহায্যে নয়। পাশাপাশি, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়াকেও তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের চরম কৌশলগত ভুল বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, দলের পুরনো কর্মীদের বদলে একটি কর্পোরেট সংস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এই অভাবনীয় ভরাডুবির অন্যতম কারণ।
নিষ্ক্রিয়তার নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনে নিজের নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে অনুব্রত স্পষ্ট জানান, কোর কমিটির নির্দেশেই তাঁকে কার্যত দায়িত্বহীন করে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলে বিক্ষুব্ধ নেতাদের পৃথক ফ্রন্ট গড়ার উদ্যোগকে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, দলনেত্রী এখন অনেকটাই একা এবং ভুল পরামর্শদাতাদের খপ্পরে পড়েছেন। অনুব্রত মণ্ডলের মতো একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতার এই প্রকাশ্য ক্ষোভ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অশনিসংকেত। সম্মান না পেলে দল ছাড়ার যে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তা আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড়সড় ভাঙন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।