বাংলায় শিল্পের নতুন অধ্যায়! এই সপ্তাহান্তেই হাওড়ায় আমূলের ‘সবচেয়ে বড়’ কারখানার শিলান্যাস, আসছেন অমিত শাহ?

হাওড়া: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিল্পায়নের হাত ধরে এক বিরাট সুখবর আসতে চলেছে বাংলায়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী ১৪ জুন রবিবারই হাওড়ার সাঁকরাইল শিল্পতালুকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দুগ্ধজাত ব্র্যান্ড ‘আমূল’ (Amul)-এর সবচেয়ে বড় কারখানার শিলান্যাস হতে পারে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে তার প্রস্তুতি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই হতে চলেছে প্রথম বড়সড় শিল্প বিনিয়োগের বাস্তব রূপায়ণ। নির্বাচনের আগে রাজ্য জুড়ে শিল্পায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব, তারই অঙ্গ হিসেবে এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাসে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও প্রশাসনের একাংশের দাবি, চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল আমলের ঘোষণা, বাস্তবায়ন বিজেপি জমানায়:
প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ২০২৫ সালের বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে (BGBS) আমূলের মূল সংস্থা ‘গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন’-এর কর্ণধার জৈন মেহতা এই বড় লগ্নির ঘোষণা করেছিলেন। কলকাতায় দেশের বৃহত্তম দই তৈরির কারখানা গড়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের, যেখানে দৈনিক ১০ লক্ষ কেজির বেশি দই উৎপাদন হবে এবং প্রয়োজন পড়বে ১৫ লক্ষ লিটার দুধের। সরকার বদলের পর সেই প্রকল্পই এবার বাস্তবায়িত হতে চলায় খুশির হাওয়া সাঁকরাইলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন খটুই ও শেখ নাজিবুলরা জানাচ্ছেন, “জোরকদমে কাজ চলছে। এলাকায় কারখানা হলে কর্মসংস্থান হবে, আমাদের আর কী চাই!” প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু দুগ্ধজাত পণ্যই নয়, এই কারখানায় আরও অনেক কিছু উৎপাদন করা হবে এবং শিলান্যাসের দেড়-দু’বছরের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে।
কথা রাখছেন শাহ, টাটাদেরও ফেরানোর বার্তা শুভেন্দুর:
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সরকার গড়ার এক মাসের মধ্যেই বাংলায় বড় বিনিয়োগ এনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন তাঁরা। পাঁচলার বিজেপি নেতা রঞ্জন পাল বলেন, “আমরা চাই অমিত শাহজি নিজে এসে এই প্রকল্পের সূচনা করুন।”
অন্যদিকে, শুক্রবারই নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে কড়া বার্তা দিয়েছেন। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি ও বেকারত্ব দূর করতে তাঁর সরকার ‘ত্রিমুখী’ নীতি নিয়ে চলবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বাম ও তৃণমূল জমানায় সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে, ফের টাটাদের বাংলায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে আমূলের এই কারখানা বাংলার শিল্পে এক নতুন ভোরের সূচনা করতে চলেছে।