পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মাঝেই ভারতের জ্যাকপট! আন্দামানের সমুদ্রের নিচে মিলল মহাসম্পদের হদিশ

নয়াদিল্লি: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার চরম অশান্তির জেরে বিশ্বজুড়ে যখন অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া, ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য সুখবর এল ভারতের জন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশের মধ্যবিত্তের পকেটে যখন টান পড়ছে, ঠিক সেই সময়ই আন্দামান সাগরের নীল জলের নিচে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার আবিষ্কার করে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ভারতের অর্থনীতিতে এক মহা-বিপ্লব এনে দিতে পারে।
বর্তমানে ভারতকে নিজের প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ জ্বালানি চড়া দামে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আরব দেশগুলোর ওপর ভারতের নির্ভরতা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু আন্দামান সাগরের তলদেশে কয়েকশো মিটার গভীরে খননকাজ চালাতে চালাতে ‘শ্রী বিজয়াপুরম-৩’ নামক কূপ থেকে এই বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এই অঞ্চলে অয়েল ইন্ডিয়ার এটি ব্যাক-টু-ব্যাক দ্বিতীয় বড় সাফল্য।
বদল যাবে মধ্যবিত্তের ভাগ্য? কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই আন্দামান বেসিন থেকে সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়, তবে বিদেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানির পেছনে ভারতের খরচ হওয়া কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বেঁচে যাবে। আর সেই টাকা বাঁচলে দেশের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভোলবদল তো হবেই, সেই সাথে মধ্যবিত্তের পকেটের ওপর চাপ কমিয়ে কমতে পারে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দামও। তৈরি হবে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান।
ভারত কি তবে নতুন ‘গুয়ানা’?
আন্দামানের এই বিপুল সম্ভাবনা দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ একে ‘ভারতের গুয়ানা’ বলতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গুয়ানায় কয়েক বছর আগে হঠাৎ বিশাল তেলের খনি আবিষ্কারের পর রাতারাতি তাদের পুরো দেশের অর্থনীতি বদলে গিয়েছিল। আন্দামানও ভারতের ভাগ্য সেভাবেই বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। জটিল ভৌগোলিক গঠনের কারণে এতদিন এখানে কাজ করা কঠিন হলেও, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এখন সমুদ্রের তলদেশের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে গ্যাস মিললেই কাল থেকে তার ব্যবহার শুরু করা যাবে না। সমুদ্রের অত গভীরে রিগ বসিয়ে লাভজনকভাবে গ্যাস তুলে আনা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল কাজ। আপাতত সেখানে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা চালানো হবে। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে তবেই শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। আন্দামানের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ভারত সরকার এখন কৃষ্ণা-গোদাবরী, মহানদী এবং কাবেরী বেসিনের মতো দেশের পূর্ব উপকূলের অন্যান্য এলাকাগুলোতেও আধুনিক সমীক্ষা চালানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।