অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মেই আসল চমক, মাত্র ১৬ দিনে সরকারের হাতে ৩ কোটি মানুষের তথ্য!

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মেই আসল চমক, মাত্র ১৬ দিনে সরকারের হাতে ৩ কোটি মানুষের তথ্য!

রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম চর্চিত প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের পূরণ করতে হচ্ছে ১২ পাতার একটি বিস্তারিত ফর্ম। আর এই ফর্মের মাধ্যমেই মাত্র ১৬ দিনে বাংলার প্রায় ৩ কোটি মানুষের সম্পূর্ণ তথ্য পৌঁছে গিয়েছে রাজ্য সরকারের হাতে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই বিশাল ডেটাবেস

পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুদান দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। গত ২৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে প্রায় ৯০ লক্ষ ফর্ম, যার মধ্যে ৬১ লক্ষই এসেছে অনলাইনে। পোর্টালটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কারেকশন পোর্টাল’। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধার জন্য মূলত মহিলাদের আবেদন করতে হলেও, ফর্মে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই ৯০ লক্ষ আবেদনের সূত্র ধরেই সরকারের কাছে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ৬৩ হাজার মানুষের তথ্য জমা পড়েছে। মহিলাদের আবেদনের মাধ্যমে গোটা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের এই পদ্ধতি ডেটাবেস তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিছক কোনো আর্থিক অনুদান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরির কৌশল। নবান্নের লক্ষ্য হলো রাজ্যের নাগরিকদের একটি স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত তথ্যপঞ্জি গড়ে তোলা। এর ফলে ভবিষ্যতে কেন্দ্র বা রাজ্যের যেকোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে নাগরিকদের আর নতুন করে নথিপত্র জমা দিতে হবে না। এই একটিমাত্র তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতেই যাচাই করা হবে সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা। প্রশাসনিক স্তরে মনে করা হচ্ছে, এই সুসংগঠিত নাগরিক তথ্যভাণ্ডার আগামী দিনে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা এবং সরকারি পরিষেবাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *