মদের বোতলের ভেতর আস্ত জ্যান্ত সাপ! বিশ্বের এই ভয়ঙ্কর পানীয়ের নাম শুনেছেন কি?
ভাবুন তো, আপনার সামনে রাখা একটি কাচের বোতল, আর তার ভেতরে কুন্ডলী পাকিয়ে রয়েছে একটি আস্ত সাপ! শুনতে গায়ে কাঁটা দিলেও, এই সাপ দিয়েই তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম এক অদ্ভুত ও রহস্যময় মদ, যার নাম ‘স্নেক ওয়াইন’ (Snake Wine)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই এই অদ্ভুত পানীয়ের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়। প্রথম দেখায় যে কেউ ভয় পেয়ে যেতে পারেন, তবে এই পানীয়ের পেছনে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্য।
কী এই স্নেক ওয়াইন এবং কোথায় পাওয়া যায়?
নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এটি এমন এক ধরনের মদ যার মূল উপাদান হলো আস্ত সাপ। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, চিনের ঝৌ রাজবংশের সময়কাল থেকে (আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে) এই স্নেক ওয়াইনের প্রচলন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে চিন, ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং জাপানের ওকিনাওয়ার মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই সমস্ত দেশের মানুষের কাছে সাপ হলো শক্তি, সাহস, পৌরুষ এবং জীবনীশক্তির প্রতীক।
কীভাবে তৈরি হয় এই সাপের মদ?
এর প্রস্তুতি পদ্ধতি বেশ চমকপ্রদ। একটি বড় কাচের জার বা বোতলে জীবিত অথবা মৃত সাপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার মধ্যে চাল, গম বা অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি কড়া অ্যালকোহল ঢেলে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় বোতলটিকে মাসের পর মাস সংরক্ষণ করা হয়, যাতে সাপের শরীরের নানা নির্যাস ধীরে ধীরে মদের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
কেন মানুষ এই অদ্ভুত মদ পান করেন?
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, স্নেক ওয়াইন পান করলে শরীরের শক্তি ও কার্যক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, চুল পড়া এবং খসখসে শুষ্ক ত্বকের মতো নানা শারীরিক সমস্যা দূর করতেও এই ওয়াইন দারুণ উপকারী বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বিষধর সাপের বিষে কি ক্ষতি হয় না?
প্রশ্ন জাগতেই পারে, বিষাক্ত সাপ মদে ডুবিয়ে রাখলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে কি না? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাপের বিষে মূলত এক ধরণের প্রোটিন থাকে। দীর্ঘদিন অ্যালকোহলে ডুবে থাকার ফলে সেই প্রোটিনের গঠন পুরোপুরি ভেঙে যায় এবং বিষ তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে এটি পানের অযোগ্য থাকে না।
লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় বিপদও!
যতই রোমাঞ্চ থাকুক না কেন, এই স্নেক ওয়াইনের ঝুঁকি কিন্তু কম নয়। ২০১৩ সালে চিনে একটি হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছিল। তিন মাস ধরে অ্যালকোহলে ভিজিয়ে রাখা একটি সাপের বোতল খুলতেই, ভেতর থেকে আচমকা এক জ্যান্ত সাপ বেরিয়ে এসে কামড়ে দেয় এক মহিলাকে! আসলে দীর্ঘক্ষণ কম অক্সিজেন ও প্রতিকূল পরিবেশেও কিছু সাপ নিজেদের অবশ করে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। তাই এই পানীয় যেমন বিস্ময়কর, তেমনই মারাত্মক বিপজ্জনক।