মনোনয়ন বাতিলের ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পেলেন না রাহুল-ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী

নয়াদিল্লি: রাজ্যসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশ থেকে দলের রাজ্যসভার প্রার্থী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের প্রার্থিপদ বাতিলই থাকছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল হাত শিবির। কিন্তু শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝে তারা কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।
কী কারণে বাতিল হলো মনোনয়ন?
রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, মীনাক্ষী তাঁর মনোনয়নপত্রে একটি বিচারাধীন মামলার তথ্য গোপন করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট হায়দরাবাদের একটি আদালতে এ. শ্রীলতা নামে এক মহিলা মীনাক্ষীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছিলেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মীনাক্ষীকে হাজির হওয়ার নোটিসও দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রে এই মামলার উল্লেখ না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল করে দেয়।
আদালতে কংগ্রেসের যুক্তি:
সুপ্রিম কোর্টে মীনাক্ষীর পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি। তিনি যুক্তি দেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি এমন ফৌজদারি মামলা থাকে যার ন্যূনতম সাজা দু’বছর বা তার বেশি, কেবল সেই তথ্যই প্রকাশ করতে হয়। মীনাক্ষীর ক্ষেত্রে আদালত থেকে শুধু সমন জারি করা হয়েছিল, কোনো ফৌজদারি মামলা রুজু হয়নি। মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি খারিজের আবেদনও আদালতে বিচারাধীন।
হস্তক্ষেপে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট:
কংগ্রেসের সমস্ত যুক্তি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, এই মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “সিদ্ধান্ত যতই ভুল হোক না কেন, একবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেলে তার প্রতিকার সাধারণত অন্য আইনি পথে মেলে। নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই পর্যায়ে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।” সুপ্রিম কোর্টের এই অনড় মনোভাবের জেরে রাজ্যসভা ভোটের মুখে মধ্যপ্রদেশে চরম অস্বস্তিতে পড়ল কংগ্রেস।