এনডিএ-তে যাওয়া অনৈতিক ও সুবিধাবাদী চাল! বিদ্রোহী তৃণমূলীদের কড়া বার্তা সৌগতর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম ডামাডোল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দলের এই ঘোরতর সংকটের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতার এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রবণতাকে সম্পূর্ণ ‘অনৈতিক’ বলে তীব্র সমালোচনা করলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর মতে, দলের এই দুঃসময়ে এত দ্রুত দলবদল করার মানসিকতা রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী এবং সুবিধাবাদী পদক্ষেপ।
অভিষেকের পাশেই সৌগত
দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এককভাবে দায়ী করতে নারাজ সৌগত রায়। সম্প্রতি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেও, সৌগতবাবু এই মনোভাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে দল বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তবে এর জন্য কেবল অভিষেককে কাঠগড়ায় তোলা অযৌক্তিক। তিনি স্পষ্ট জানান, যারা ৪ মের আগে অভিষেকের নামে জয়ধ্বনি দিতেন, তারাই এখন দলের খারাপ অবস্থা দেখে ভোলবদল করছেন। এই আচরণকে তিনি চরম সুবিধাবাদী রাজনীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ঐক্য রক্ষায় তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের দল ছাড়ার জল্পনার মাঝেই দলের ভাঙন ঠেকাতে তৎপর সৌগত রায়। সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখতে তিনি বিক্ষুব্ধ সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সায়নী ঘোষের মতো নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দলে ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ। ২০২৬-এর নির্বাচনী হারের পর তৃণমূলের এই ধারাবাহিক অন্তর্ঘাত ও দলবদলের হিড়িক রাজ্য রাজনীতিতে দলের ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করেছে। দ্রুত এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে না পারলে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।