“আমি ভিডিও তুললেই ভেঙে পড়বে বিমান!” আমেদাবাদ দুর্ঘটনার ১ বছর পর অদ্ভুত আতঙ্কে ‘এরোপ্লেন বয়’

“আমি ভিডিও তুললেই ভেঙে পড়বে বিমান!” আমেদাবাদ দুর্ঘটনার ১ বছর পর অদ্ভুত আতঙ্কে ‘এরোপ্লেন বয়’

আমেদাবাদ: “আমি ভিডিও করলেই বুঝি আকাশ থেকে ভেঙে পড়বে আস্ত একটা বিমান!”—এই অদ্ভুত এক কুসংস্কার আর আতঙ্কে দিন কাটছে গুজরাটের ১৮ বছর বয়সী কিশোর আরিয়ান আসারির। ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১২ জুন আমেদাবাদ বিমানবন্দরে ঘটেছিল ভারতের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। ওড়ার মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ‘AI-171’ বিমানটি। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬০ জন মানুষ। সেই অভিশপ্ত ধ্বংসলীলা দুর্ঘটনাবশত নিজের মোবাইলের ক্যামেরায় লেন্সবন্দি করেছিল আরিয়ান। আর তারপর থেকেই তার জীবন বদলে গেছে এক অদ্ভুত ট্রমার হাত ধরে।

বন্ধুদের দেখানোর জন্য অন করেছিল ক্যামেরা

গুজরাটের আরাবল্লি জেলার মেঘরাজ তালুকের এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা আরিয়ান। গত বছর ১২ জুন দ্বাদশ শ্রেণির বই কিনতে আমেদাবাদে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী বাবার কাছে এসেছিল সে। বাবার বাড়ির ছাদ থেকে খুব কম উচ্চতায় বিমান উড়তে দেখে গ্রামে বন্ধুদের দেখাবে বলে শখের বশে মোবাইলের ক্যামেরা অন করেছিল আরিয়ান। কিন্তু সেই বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি যে আর ওপরে না উঠে মুহূর্তের মধ্যে বিশালাকার আগুনের গোলায় পরিণত হবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। চোখের সামনে ২৪১ জন আরোহী ও মাটিতে থাকা ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু স্তব্ধ করে দিয়েছিল কিশোর আরিয়ানকে।

খ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম ট্রমা

এই ঘটনার পর রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে আরিয়ানের নাম হয়ে যায় ‘এরোপ্লেন বয়’। গ্রামে বা কোনো অনুষ্ঠানে গেলে মানুষ তাকে এক ডাকে চিনছে, সেলিব্রিটি তকমা দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিচিতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর মানসিক আতঙ্ক।

দুর্ঘটনার পর থেকে মোবাইলে বিমানের ছবি বা ভিডিও তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে আরিয়ান। তার মনে গেঁথে গেছে এক অদ্ভুত ভীতি—সে ভিডিও করলেই নাকি আবার ভেঙে পড়বে বিমান! ইতিমধ্যে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুত সে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার। কিন্তু যে ছেলেটি চোখের সামনের দুর্ঘটনার পর নিজে বিমানে চড়ার সাহসই হারিয়ে ফেলেছে, সে কীভাবে উড়বে রূপোলি ডানায়? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে ‘এরোপ্লেন বয়’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *