বিশ্বকাপের আগে বদলে যাওয়া ব্রাজিলের নেপথ্যে আনসেলোত্তি জাদু!

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ঠিক মুখে এক নতুন ও সুশৃঙ্খল ব্রাজিল দলের বার্তা দিলেন তারকা গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। আগামী ১৪ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে চলেছে। আর তার আগে দলের হেড কোচ কার্লো আনসেলোত্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ লিভারপুলের এই অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর মতে, কিংবদন্তি এই ইতালিয়ান কোচের ছোঁয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং মানসিকতা পুরোপুরি বদলে গেছে।
সংকট কাটিয়ে আনসেলোত্তির শান্ত রসায়ন
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সেলেসাওরা অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা নিয়েই বড়সড় সংশয় দেখা দিয়েছিল। প্রথম বিদেশী কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে তোলার কৃতিত্ব অর্জন করা আনসেলোত্তি দলে এনেছেন এক জাদুকরী পরিবর্তন। অ্যালিসন জানান, ফুটবলারদের জন্য বিগত কয়েক বছর নানা কারণে ভীষণ অস্থিরতার ছিল। তবে রেকর্ড পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই ম্যানেজার দায়িত্ব নেওয়ার পর দলে কোনো বিতর্ক নেই, বরং কাজের জন্য একটি শান্ত ও গোছানো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আনসেলোত্তির ধৈর্য, নম্রতা এবং ফুটবল নিয়ে পরিষ্কার ধারণা খেলোয়াড়দের খেলার শৈলীকে অনেক সহজ করে তুলেছে।
শৈশবের আইডল তাফারেলের ছায়া
প্রধান কোচের পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের গোলকিপিং কোচ এবং ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ক্লদিও তাফারেলের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অ্যালিসন। শৈশবের হিরোকে পাশে পাওয়াকে বড় সৌভাগ্য উল্লেখ করে তিনি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন। অ্যালিসন জানান, তাফারেলের মতো দক্ষ ও অনুপ্রেরণাদায়ী কোচের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ স্তরে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারছেন। কঠিন সময়ে মাঠ ও মাঠের বাইরে দলকে আগলে রাখার ক্ষেত্রে তাফারেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা ব্রাজিলের জন্য এই অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন ও মানসিক পরিবর্তন অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কোচের স্পষ্ট রণকৌশল এবং দলে তৈরি হওয়া এই স্বস্তিদায়ক পরিবেশ মাঠের পারফরম্যান্সে ব্রাজিলকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।