দিল্লিতে বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, দেব-সায়নী-রচনাদের সই সংবলিত চিঠি ঘিরে তীব্র তোলপাড়!

রাজ্য রাজনীতির পর এবার জাতীয় স্তরেও তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়ে উঠেছে। লোকসভায় তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি গোপন নথির প্রতিলিপি প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই তালিকায় দেব, সায়নী ঘোষ ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির তারকা সাংসদদের নাম থাকায় আলোড়ন আরও বেড়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এই সাংসদেরা নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলে বিশেষ সূত্রে খবর। যদিও এই চিঠির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ্যে আসা নথিতে দেখা যাচ্ছে, বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের স্বাক্ষর রয়েছে সবার প্রথমে, যেখানে তাঁর নামের পাশে ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্যসচেতক লেখা রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের সইয়ের পাশে লেখা রয়েছে ‘ডেপুটি লিডার’। এছাড়াও তালিকায় বাপি হালদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক এবং জুন মালিয়ার মতো একঝাঁক হেভিওয়েট সাংসদের নাম রয়েছে। সূত্রের দাবি, হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সায়নী ঘোষ তালিকায় পরবর্তী সময়ে স্বাক্ষর করেছেন। বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই লোকসভায় নতুন ব্লক গঠন করতে চাইছে।
বিক্ষোভের নেপথ্যে কারণ ও এনডিএ যোগের জল্পনা
দলীয় সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং পরবর্তীতে দলীয় কমিটিতে রদবদল নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। গত ৫ জুন কালীঘাটের বৈঠকের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কমিটি গঠন করলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। আশ্চর্যজনকভাবে, নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সায়নী ঘোষ এবং মালা রায়ের মতো নেত্রীরাও এই বিদ্রোহী শিবিরে শামিল হয়েছেন। অসন্তুষ্ট সাংসদদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই ১৯ জন সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এই আকস্মিক বিদ্রোহের প্রধান কারণ।
তৃণমূলের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
লোকসভায় এত বিপুল সংখ্যক সাংসদের দলত্যাগের সম্ভাবনা ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন কমবে, তেমনই সংসদের ভেতরেও দল এক ধাক্কায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করতে না পারায় দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
এদিকে এই গণস্বাক্ষরকে এখনই চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ তৃণমূল শিবির। দলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ এই সইয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং লোকসভার স্পিকারের দফতরে থাকা ‘স্পেসিমেন সিগনেচার’ বা আসল স্বাক্ষরের নমুনার সঙ্গে এই সইগুলো মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। দিল্লি সূত্রে সই যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রাজনৈতিক টানাপড়েন ও ধোঁয়াশা বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।