“আমার নেতা শুধুই মমতা, অভিষেক নন!” কল্যাণের সুরে সুর মিলিয়ে এবার ‘বিস্ফোরক’ শত্রুঘ্ন সিনহাও

“আমার নেতা শুধুই মমতা, অভিষেক নন!” কল্যাণের সুরে সুর মিলিয়ে এবার ‘বিস্ফোরক’ শত্রুঘ্ন সিনহাও

কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তীব্র কোন্দলে জর্জরিত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের একাংশের ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ছে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার সেই একই সুর শোনা গেল আসানসোলের বর্ষীয়ান তারকা-সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার গলায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত এড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর নেতা এক এবং একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

রাজ্যের সমস্ত স্তরের নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরে বিদ্রোহের সুর চড়ছে। সম্প্রতি আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কল্যাণবাবু তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বস হতে পারেন না।’ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ দলে থাকলে তিনি দল করা নিয়ে ভাববেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

‘আমার নেতা শুধুই দিদি’

কল্যাণের এই চরম বিদ্রোহের আবহেই এবার আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। তবে কড়া ভাষায় না হলেও, কল্যাণের সুরেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন দলে অভিষেকের নেতৃত্ব তিনি মানছেন না। শত্রুঘ্ন বলেন, “আমার নেতা এক এবং একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন।” তাঁর কথায়, খারাপ সময়ে দিদি তাঁর পাশে ছিলেন, তাই এই সংকটের দিনে তিনিও দিদির পাশেই থাকবেন। এই আনুগত্য শুধুই ‘দিদির’ প্রতি।

কল্যাণের ভূয়সী প্রশংসা শত্রুঘ্নর

বিদ্রোহী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের অন্যতম সেরা সংসদ সদস্য। ওঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা এবং সংসদে বক্তব্য রাখার দক্ষতা বরাবরই প্রশংসিত।” তবে কল্যাণ ও অভিষেকের এই সংঘাতকে আদর্শগত নয়, বরং প্রোটোকল এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার লড়াই বলেই মনে করছেন বিহারিবাবু।

পাশাপাশি, নির্বাচনের ঠিক পরেই যাঁরা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তাঁদের টাইমিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শত্রুঘ্ন। তাঁর প্রশ্ন, অসন্তোষ থাকলে তা ভোটের আগে কেন প্রকাশ করা হলো না?

একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতির হাতবদল ঘটেছে, ঠিক তখনই তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ বনাম নবীনের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *