সীমান্তে কড়াকড়ি থেকে ১২৫ দিনের কাজ, এক মাসেই বড়সড় ভোলবদলের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের বয়স মাত্র ৩৫ দিন। এর মধ্যেই রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই অল্প সময়ে সরকারের মূল অর্জন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী, তা স্পষ্ট করতে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
অনুপ্রবেশ রোধ ও জাতীয় সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সরকারের প্রথম মাসের অন্যতম প্রধান সাফল্য ও অগ্রাধিকার হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া এবং রাজ্যে থমকে থাকা জনগণনার কাজ চালু করাকে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক আদর্শের সরকার থাকায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া সহজ হয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে সীমান্তে অপরাধ ও অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি, এনডিএ শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এবার সমস্ত কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পাবেন।
১০০ দিনের অবসান ও ১২৫ দিনের ‘জিরামজি’ প্রকল্প
রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘মনরেগা’ বা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার পরেই রাজ্যে বিকল্প হিসেবে চালু হচ্ছে ১২৫ দিনের কাজের নতুন প্রকল্প ‘জিরামজি’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করায় বিগত এক মাসেই বিভিন্ন খাতে বিপুল তহবিল আসতে শুরু করেছে। যার ফলে এই অল্প সময়ের জন্যেও কেন্দ্র মনরেগা খাতে ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে এবং নতুন ‘জিরামজি’ প্রকল্পের জন্য অর্থবর্ষের বাকি সময়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫,৮০০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় তহবিল লুট ও প্রকল্প আটকে রাখার যে অভিযোগ ছিল, তা দূর করতেই এই পদক্ষেপ। এই বিপুল অর্থনৈতিক বরাদ্দের ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই দায়িত্ব জনগণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী অর্থবর্ষের শেষে সাধারণ মানুষ নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পারবেন যে এই সরকার শুধু দল, পতাকা বা মুখের পরিবর্তন ঘটাতে আসেনি, বরং গোটা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে এসেছে।