হাফ প্যান্ট পরিয়ে ধৃত তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ! নন্দীগ্রাম থেকে ফলতায় এক অভিনব শাস্তির নজির

দুষ্কৃতী ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের জনসমক্ষে শাস্তির এক নতুন ও অভিনব চিত্র দেখল রাজ্যবাসী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক নন্দীগ্রাম— সর্বত্রই পুলিশের কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের। ফলতার তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে টানা দু’দিন হাফ প্যান্ট ও অন্তর্বাস পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর পর শুক্রবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল নন্দীগ্রামেও। তদন্তের স্বার্থে ধৃত তৃণমূল নেতা আব্দুল আলিম আলরাজিকে টি শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ।
খুন ও বোমাবাজির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের খাতায় পলাতক থাকা নন্দীগ্রামের কালীচরণপুরের এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। গত রবিবার রাতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি কর্মী রথিবালা আড়িকে খুনের ঘটনায় তাঁর সরাসরি যোগ ছিল। এর পাশাপাশি, ২০২২ সালে নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর হাই স্কুলে বোমাবাজির ঘটনায় এনআইএ-এর খাতাতেও তাঁর নাম রয়েছে। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর একাধিক হামলার নেপথ্যেও আব্দুলের হাত ছিল বলে অভিযোগ। সোমবার হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠান। এরপর শুক্রবার তদন্তের কারণে তাঁকে ওই পোশাকেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশি পদক্ষেপে নতুন বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের জনসমক্ষে এহেন অবস্থায় ঘোরানোর ঘটনা প্রশাসনিক স্তরে একটি অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা অপরাধীদের প্রকাশ্যে এনে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, আইন ও শাস্তির চোখে সকলেই সমান। এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মূল কারণ হলো দুষ্কৃতীদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা মজবুত করা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে ওই সমস্ত এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা, বাহুবলীদের দাপট এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ অনেকাংশে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।