মমতাকেও নিশানা অনুব্রতর, সম্মান না পেলে তৃণমূল ছাড়ার বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি কেষ্টর!

মমতাকেও নিশানা অনুব্রতর, সম্মান না পেলে তৃণমূল ছাড়ার বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি কেষ্টর!

নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হলো। দলের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ তথা বীরভূমের ডাকাবুকো নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবার সরাসরি দলীয় নেতৃত্ব এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলে যোগ্য সম্মান না পেলে তিনি দল ছাড়তেও দ্বিধাবোধ করবেন না। একের পর এক শীর্ষ নেতার ‘বেসুরো’ মন্তব্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ও কংগ্রেসের প্রসঙ্গ

অনুব্রত মণ্ডলের এই আকস্মিক ক্ষোভের পেছনে রয়েছে একাধিক সাংগঠনিক কারণ। তাঁর দাবি, ভোটে দলের এই বিপর্যয়ের পেছনে ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ দায়ী। ২০১১ সালে বা তার আগে দলের সাফল্যের সময়ে কোনো আইপ্যাকের প্রয়োজন ছিল না। এর পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করাকেও বড় রাজনৈতিক ভুল হিসেবে দেখছেন তিনি। অনুব্রতর মতে, কংগ্রেসকে চটানো উচিত হয়নি এবং অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই দল ক্ষমতায় এসেছিল। এছাড়া, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাঁকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা এবং কোর কমিটির বৈঠকে বিধায়কদের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়ার ফলেই তাঁর মনে এই তীব্র অভিমানের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

অনুব্রত মণ্ডলের এই ‘বেসুরো’ অবস্থান বীরভূম তথা সমগ্র রাজ্যের শাসক শিবিরের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। গরু পাচার মামলায় জেলে থাকার সময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই বিশ্বস্ত নেতার এই দূরত্ব তৈরি হওয়া দলের সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা। এর ফলে বীরভূমে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশ এবং এবার অনুব্রতর এই বিস্ফোরণ প্রমাণ করে যে, দলের পুরোনো ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমে বাড়ছে। এই অভ্যন্তরীণ ফাটল যদি দ্রুত মেরামত করা না যায়, তবে আগামী দিনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *