আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় সিআইডি কর্তারা, অবশেষে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরলেন অভিষেক

রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি হলো কালীঘাটে। দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত থাকার কারণ দর্শিয়ে তদন্তকারী দল সিআইডির আধিকারিকদের দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখার পর অবশেষে নিজের বাসভবনে ফিরলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্বে বৈঠক চললেও নোটিস গ্রহণ করার জন্য তদন্তকারী টিমকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এটিকে ক্ষমতার দম্ভ হিসেবে দেখলেও, বিষয়টিকে পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব।
তদন্তের জোড়া ফলা ও বিধায়কদের সই জালকাণ্ড
একদিকে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে সিআইডি-র এই তৎপরতা, ঠিক তখনই কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে সিআইডি-র নোটিস। বিধায়কদের সই জাল করার একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী মদন মিত্রকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সিআইডি আধিকারিকরা সরাসরি তাঁর কামারহাটির বাসভবনে গিয়ে নোটিসটি হস্তান্তর করেন, যা মদন মিত্র নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন। একদিনে দুই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে সিআইডির এই সক্রিয়তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি স্বস্তি
এই রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝেই মালদহে চার জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে নদীভাঙনের মতো জরুরি সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রশাসনিক রাশ শক্ত করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি তালিকা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত এজেন্ট প্রসন্ন রায়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কারাবন্দি থাকার পর শর্তসাপেক্ষে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থার এই ধারাবাহিক অভিযান এবং একই সাথে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের এই একাধিক ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একদিকে আইনি তদন্তের চাপ এবং অন্যদিকে প্রশাসনিক রদবদল ও দলীয় অসন্তোষ—সব মিলিয়ে এই জোড়া পরিস্থিতি শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের রাজনৈতিক রণকৌশলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।