সামনেই পরীক্ষা, স্কুল শিক্ষকদের কাছেই পড়তে চেয়ে এবার বিধায়কের দুয়ারে পড়ুয়ারা!

সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে রাজ্য সরকারের কঠোর নজরদারির জেরে এবার চরম সংকটে পড়েছে পড়ুয়াদের একাংশ। সামনেই দ্বাদশ শ্রেণির সেমিস্টার পরীক্ষা, অথচ এই চূড়ান্ত সময়ে গৃহশিক্ষক সংকটে পঠনপাঠন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র চেয়ে এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলইয়ের দ্বারস্থ হলো এক ঝাঁক শিক্ষার্থী। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে অন্তত স্কুল শিক্ষকদের কাছে টিউশন পড়ার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে বিধায়কের কাছে একটি ডেপুটেশন বা আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তারা।
কড়াকড়ির জের ও গুণগত শিক্ষার সংকট
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও, এতদিন বহু শিক্ষক তা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং অভিভাবকদের একাংশও এর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কড়া নজরদারি ও কড়া নির্দেশিকার কারণে শিক্ষকরা টিউশন পড়ানো বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলেই তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগ এবং বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যোগ্য বিকল্প গৃহশিক্ষকের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। পড়ুয়াদের দাবি, গুণমান ঠিক রেখে উচ্চমানের শিক্ষা পাওয়ার জন্য তারা স্কুল শিক্ষকদের ওপরই ভরসা করত। বহু শিক্ষার্থীকে ভালো শিক্ষার খোঁজে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও যাতায়াত করতে হতো, যা এখন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
মাত্র দুই মাস পরেই পরীক্ষা থাকায় শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে এই টিউশন বন্ধের সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, এই সময়ে নতুন কোনো বিকল্প গৃহশিক্ষক খুঁজে পাওয়া আসাম্ভব, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলে। শিক্ষার্থীদের এই অসহায়তার কথা শুনে চন্দ্রকোনার বিধায়ক সুকান্ত দোলই তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পড়ুয়াদের এই উদ্বেগের বিষয়টি দ্রুত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষা মহলের মতে, নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প গুণগত শিক্ষার পরিকাঠামো নিশ্চিত না করা গেলে এই ধরণের সংকট আগামীদিনে আরও বাড়তে পারে।