দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগর সড়ক ও ৯০ নতুন রাস্তার মহাপরিকল্পনায় আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থা!

পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ পরিকাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার। মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরই তিনি রাজ্যের রাস্তাঘাট ঢেলে সাজানোর এই মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেন। মূলত প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া, দফতরে ভয়মুক্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি এবং মন্ত্রীর সরাসরি সরেজমিনে কাজ খতিয়ে দেখার উদ্যোগের কারণেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আগামী সাত মাসের মধ্যে সমগ্র রাজ্যের সড়ক ব্যবস্থার দৃশ্যপট পরিবর্তন করা।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রামীণ সংযোগের নতুন রূপরেখা
পূর্ত মন্ত্রকের এই নতুন পরিকল্পনায় গ্রামীণ, অবহেলিত এবং সমস্যাপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে রাজ্যজুড়ে ৯০টি নতুন রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এবং যেসব অঞ্চলে পানীয় জলে আর্সেনিকের সমস্যা রয়েছে, সেখানে সড়ক ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ ছাড়া, বর্ষাকালের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে ১৫ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পিচের নতুন কাজ বন্ধ রাখা হবে এবং এই সময়ে রাজ্যের সমস্ত সড়কের খানাখন্দ বা গর্ত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সাথে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা
এই মহাপরিকল্পনার সবচেয়ে দূরপ্রসারী ও মেগা প্রকল্প হলো দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় সড়ক। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং রাজ্য পূর্ত দফতর (PWD) যৌথভাবে এই সড়কটি নির্মাণ করবে। এই সড়কটির একটি অংশ বিহারের কিশানগঞ্জ হয়ে যাবে, যার ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব অনেকটাই কমে আসবে। নদীয়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলোতে জল জীবন মিশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
এই প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জাতীয় সড়ক চালু হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে জোয়ার আসবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সাথে পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। একই সাথে, নতুন রাস্তাগুলোর নির্মাণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি করবে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক দুর্ঘটনা ও জীবনহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।