সুরুচির পর এবার শ্রীভূমি! প্রাক্তন মন্ত্রীর ক্লাবে মিলল গঙ্গাসাগরের প্রসাদ ও সরকারি ত্রাণের পাহাড়

পুরনিয়োগ দুর্নীতির আবহে এবার রাজ্যজুড়ে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীদের ক্লাব ও কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সংঘের পর এবার খোদ সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে মিলল গঙ্গাসাগরের প্রসাদ থেকে শুরু করে কাঁড়ি কাঁড়ি শাড়ি, ত্রিপল ও বালতি। সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে সরকারি টাকায় কেনা এই বিপুল সামগ্রী কেন ক্লাবের অন্দরে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
উদ্ধার বিপুল সামগ্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ক্লাব থেকে পিতলের হাঁড়ি, ফুটবল-সহ একাধিক ব্যবহার্য জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, বিধায়ক তহবিল এবং পুরনিগম থেকে অনুমোদিত অর্থ ব্যয় করে এই জিনিসপত্রগুলি কেনা হলেও তা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। উলটে দিনের পর দিন সেগুলি ক্লাবঘরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিজেপির দাবি, মানুষকে ত্রাণ না দিয়ে সেখানে গঙ্গাসাগরের পবিত্র প্রসাদও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল। শাসকদলের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
একের পর এক ক্লাবে দুর্নীতির ছায়া
শ্রীভূমির এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। এর আগে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সংঘের ক্লাবের বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে উদ্ধার হয় সরকারি জলের বোতল ও ত্রাণসামগ্রী। সদ্যই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির অফিসে বিজেপি বিধায়কের তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সরকারি প্রকল্পের শাড়ি, শিশুদের পোশাক এবং ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। পাশাপাশি, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভাতেও শাসকদলের এক কাউন্সিলরের অফিস থেকে মিলেছে মজুত করা ত্রাণ।
জনপ্রতিনিধিদের নিজস্ব বলয়ে সরকারি ত্রাণের এই বিপুল মজুত জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের এই ধরনের অপব্যবহার ও বণ্টন-দুর্নীতি একদিকে যেমন অভাবী মানুষের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শাসকদলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আগামী দিনে এই দুর্নীতিগ্রস্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আরও প্রবল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।