কর্মক্ষেত্রে ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ কাড়তে পারে আপনার চাকরি! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/14/EkmUIrbn9AU1rjWvgId1.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
স্কুল বা কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার পর অনেকেই সহকর্মীদের মধ্যে বন্ধু খুঁজে পান। আপাতদৃষ্টিতে অফিসের এই বন্ধুত্ব বেশ নির্দোষ ও আনন্দদায়ক মনে হলেও এটি অনেক সময় পেশাগত জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা কর্মক্ষেত্রের এই অতি-বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠতাকে ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ বলে আখ্যায়িত করছেন, যা একজন কর্মীর সুনাম এবং ক্যারিয়ার দুই-ই ধ্বংস করতে পারে।
পেশাদারিত্বে বন্ধুত্বের নেতিবাচক প্রভাব
কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গভীর হলে কাজের সঠিক মূল্যায়ন করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে। বন্ধুত্বের খাতিরে সহকর্মীর কাজের ফাঁকি বা ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যার ফলে সামগ্রিক কাজের মান নিম্নমুখী হয়। এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে ঘন ঘন আড্ডা বা টি-ব্রেকের কারণে কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। অনেক সময় বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের কাজের ডেডলাইন মিস করার মতো ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি, সীমানা ভুলে ব্যক্তিগত নিন্দেমন্দ ও পরচর্চায় জড়িয়ে পড়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদের সৃষ্টি হয়, যা দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।
মানসিক চাপ ও হঠকারী সিদ্ধান্ত
সাধারণ সহকর্মীর সঙ্গে মতবিরোধ আর বন্ধু হয়ে ওঠা সহকর্মীর সঙ্গে বচসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য ব্যক্তিগত স্তরে তীব্র মানসিক প্রভাব ফেলে। এই ধরনের আবেগতাড়িত পরিস্থিতিতে কর্মীরা প্রায়শই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এমনকি বন্ধুস্থানীয় সহকর্মীর সঙ্গে ঝামেলার জেরে অনেকেই মানসিক চাপে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে নেন।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের জায়গা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিধি সম্পূর্ণ আলাদা রাখা উচিত। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে একটি নির্দিষ্ট পেশাদার গণ্ডির মধ্যে রাখলেই মানসিক দোলাচল এড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে যেমন কাজের মান উন্নত হয়, অন্যদিকে ক্যারিয়ারও থাকে সুরক্ষিত।