দল ভাঙার জল্পনার মাঝেই প্রথমবার মুখ খুললেন অভিষেক! ক্ষুব্ধ কল্যাণের মানভঞ্জনে দিলেন নজিরবিহীন বার্তা

ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকে দলের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ভাঙন ও কোন্দল নিয়ে অবশেষে প্রথমবার মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিদ্রোহ এবং বিশেষ করে প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁচাছোলা আক্রমণের জবাবে অত্যন্ত সংযত ও সুকৌশলী প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। কল্যাণের ক্ষোভ প্রশমনের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তকারী এজেন্সির ভয় দেখিয়ে দল ভাঙানোর তত্ত্বও আউড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
‘ওঁর চারটে কটূ কথা বলার অধিকার আছে’, কল্যাণের মানভঞ্জনের চেষ্টা
গত বৃহস্পতিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে চূড়ান্ত শর্ত রেখে অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্য’ ও আসাম্মানের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ নরম সুর বজায় রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমার কোনও व्यक्तिगत ক্ষোভ নেই। আমাকে নিয়ে চারটে কটূ কথা বলার অধিকার ওঁর রয়েছে। কারণ উনি আমাকে ছোট থেকে মানুষ করেছেন, বড় হতে দেখেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ওঁর কোনও একটি ঘটনা খারাপ লাগতেই পারে এবং সেটা উনি প্রকাশ করেছেন। অভিষেক স্পষ্ট জানান, তিনি কল্যাণবাবুকে আগেও সম্মান করতেন এবং আগামী দিনেও করবেন।
‘৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছি’, বিদ্রোহীদের কড়া জবাব
দলের অন্দরে একের পর এক উইকেট পড়া এবং লোকসভা ও বিধানসভায় তীব্র বিদ্রোহের মাঝেই দলের শক্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহ করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হয়েছেন এবং সায়নী ঘোষের মতো একদা অভিষেক-ঘনিষ্ঠরাও এখন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। এই ভাঙন প্রসঙ্গে দলের ভোটব্যাঙ্কের খতিয়ান মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন:
- জনসমর্থন অটুট: ৩০ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরেও তৃণমূল রাজ্যে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
- কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব: প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন এবং দল তাঁদের হয়ে ময়দানে লড়বে, এক চুল জায়গাও ছাড়বে না।
এজেন্সি দিয়ে দমানো যাবে না, রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ
দলের এই বর্তমান সংকটের পিছনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপ রয়েছে বলে পরোক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক। তিনি সাফ জানান যে, ধমকে-চমকে কিংবা ইডি, সিবিআই বা সিআইডি দিয়ে কুৎসা রটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে দমানো যাবে না। বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, ৩৪ বছরের সিপিএমের জগদ্দল পাথরকে সরিয়েই তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। তাই যাঁরা এখন বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, তাঁদের এজেন্সির আড়ালে না লুকিয়ে রাজনৈতিকভাবে ময়দানে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।