তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ, মদনের বাসভবনে ইডি! চরম সংকটে তৃণমূল

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নজিরবিহীন বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে দলের অন্দরে তীব্র বিদ্রোহ— সব মিলিয়ে দলের রাজনৈতিক সংহতি ও ভবিষ্যৎ এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
হেভিওয়েটদের বাসভবনে ম্যারাথন তল্লাশি
সাতসকালে জোড়া অভিযানের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তালা ভেঙে প্রবেশ করে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করেছে শালবনি থানার পুলিশ। এই অভিযানে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের ভবানীপুরের বাড়িতে হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মূলত পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আটটি জায়গায় এই অভিযান চলছে। এর পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে আগামী ১৬ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে নোটিশ পাঠিয়েছে সিআইডি।
দলের অন্দরে তীব্র অন্তর্কলহ ও ভাঙন
প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপের সমান্তরালে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ইউসুফ পাঠান এবং সায়নী ঘোষের মতো প্রথম সারির নেতাসহ প্রায় ১৯ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ স্পিকারের কাছে একটি যৌথ চিঠি জমা দিতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই এক সাংসদ শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে দলত্যাগ করেছেন।
নতুন সরকারের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ত্রিমুখী চাপ— নির্বাচনী পরাজয়, আইনি পদক্ষেপ এবং দলের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ— তৃণমূলের অখণ্ডতাকে এক গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই ক্ষোভ প্রশমন করতে না পারলে দলের অস্তিত্ব আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।