বিনামূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা! রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালে আরও ১২০০ ফ্রি বেড, ১ টাকাও লাগবে না রোগীদের
কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। গরিব ও সাধারণ মানুষের জন্য এবার বেসরকারি নামী হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার দরজা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খুলে যেতে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতার ১৭টি নামী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ৬৬০টি বেড পাওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। আর শনিবারের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর আরও ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রায় ১,২০০টি বেড সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি মিলেছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের জন্য বেসরকারি স্তরে মোট বেডের সংখ্যা একধাক্কায় অনেক বেড়ে গেল।
স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জেলা স্তরের বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রতিনিধিদের এই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।
চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ দেবে হাসপাতালই!
ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল সরকারি জমি বা অন্য সুবিধা পেয়েছে, তাদের মোট বেডের ১০ শতাংশ গরিব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাখা বাধ্যতামূলক। এতদিন অভিযোগ ছিল, হাসপাতালগুলি শুধু বেডটুকু দিয়েই দায় এড়ে ফেলত, বাকি ওষুধের খরচ রোগীকে দিতে হতো।
শনিবারের বৈঠকে এই নিয়মে বড় বদল আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে সংরক্ষিত বেডের রোগীদের জন্য বেড চার্জ, চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচার, ওষুধপত্রসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ হাসপাতালকেই বহন করতে হবে। রোগী বা তাঁর পরিবারের থেকে ১ টাকাও নেওয়া যাবে না। সরকারি রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা রোগীরা এই সুবিধা পাবেন।
জরুরি রোগীকে ফেরালেই কড়া ব্যবস্থা:
বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনা, হৃদরোগ (Heart Attack), স্ট্রোক বা প্রসূতি সংক্রান্ত কোনও জরুরি (Emergency) রোগীকে কোনও অবস্থাতেই বেসরকারি হাসপাতালগুলি ফিরিয়ে দিতে পারবে না। রোগীর আর্থিক অবস্থা বা কোনও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসা আটকে রাখা যাবে না। ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
পরিষেবা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম:
- আলাদা ফেসিলিটি ম্যানেজার: এই ফ্রি বেডগুলির সঠিক পরিচালনার জন্য প্রতি হাসপাতালে আলাদা ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগ করতে হবে।
- ডিসপ্লে বোর্ড: হাসপাতালের এমন জায়গায় ডিসপ্লে বোর্ড লাগাতে হবে যা সবার নজরে আসে। সেখানে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় এই বিনামূল্যের পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য লেখা থাকবে।
- টোল-ফ্রি নম্বর: রোগী বা তাঁদের পরিবারের কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য একটি টোল-ফ্রি কলব্যাক ব্যবস্থার সুবিধা থাকবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, এই নতুন নিয়ম কড়াভাবে চালু হলে সরকারি হাসপাতালগুলির ওপর থেকে রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে এবং আর্থিক অনটনের কারণে এতদিন যারা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতেন, তাঁরাও এবার বেসরকারি হাসপাতালে সেরা পরিষেবা পাবেন।