টাকা পাবেন না বাংলাদেশিরা, ৩ শর্ত না মানলে বাতিল হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

টাকা পাবেন না বাংলাদেশিরা, ৩ শর্ত না মানলে বাতিল হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

নন্দীগ্রাম: রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৭৯ লক্ষ মা-বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু এরই মাঝে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া শর্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপক থেকে শুরু করে নতুন আবেদনকারী—সবাইকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই ফর্ম জমা নেওয়া চলছে এবং গত ৩ জুন থেকে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।

১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে ক্ষোভের জবাব:

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ১২ পাতার একটি দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যেখানে সবিস্তারে পারিবারিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে মহিলাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি কয়েক লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকে গিয়েছে! সেই অনিয়ম রুখতেই এবার কড়াকড়ি করা হচ্ছে।”

কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?

নন্দীগ্রামে এক জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি তিনটি বড় শর্তের কথা উল্লেখ করেন, যা না মানলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা বা বিধবা ভাতার মতো সরকারি সুবিধা মিলবে না:

  • ১. বিদেশী নাগরিক: কোনওভাবেই বাংলাদেশিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
  • ২. টিকাকরণ বাধ্যতামূলক: যারা নিজেদের সন্তানদের সরকারি নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক দেওয়ান না, তাঁরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
  • ৩. জাতীয়তাবোধ ও শিক্ষা: যারা সন্তানদের সরকারি বা সরকারি অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি করেন না এবং এমন জায়গায় পড়ান যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সংগীত গাইতে অসুবিধা বোধ করা হয়, তাঁরাও কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

তবে দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে আমজনতাকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফর্ম নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারী ও সহযোগীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে ফর্ম পূরণ এবং পোর্টালে তা আপলোড করার ব্যবস্থা করবে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *