চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে দুরমুশ করে স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল!

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে দুরমুশ করে স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল!

বার্মিংহামে আয়োজিত হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিল টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৭১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তানি ব্যাটাররা। মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। এই দাপুটে জয়ের ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ভারতের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হলো।

স্মৃতি ও রিচার ব্যাটে ভারতের রানের পাহাড়

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। তিনি দলের পক্ষে সর্বাধিক ৬৮ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক হরমনপ্রীত ৩৬ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন। তবে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর আসল তাণ্ডব চালান উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ। মাত্র ১৭ বলে তাঁর খেলা ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ভারতকে ১৭০ রানের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। পাকিস্তানের পক্ষে ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল ২টি করে উইকেট নেন।

দীপ্তির ঘূর্ণিতে খড়কুটোর মতো উড়ল পাকিস্তান

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ভারতীয় স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ব্যাটাররা। ভারতের পক্ষে বল হাতে একাই ধস নামান দীপ্তি শর্মা। তিনি মাত্র ৫ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এছাড়া শ্রী চরণী ৩টি এবং শেফালি বর্মা ১টি উইকেট নিয়ে দীপ্তিকে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় উইমেন ইন গ্রিন।

পরিসংখ্যানে আধিপত্য ও ঐতিহাসিক জয়

এই জয়ের ফলে টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হলো। বিশ্বকাপে দুই দলের ৯ বারের দেখায় ভারত ৭ বারই জয় ছিনিয়ে নিল। অন্যদিকে সামগ্রিক টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৭টি ম্যাচের মধ্যে ভারতের জয় সংখ্যা দাঁড়াল ১৪-তে। ম্যাচের শুরুতেই দুই দেশের অধিনায়কদের মধ্যে ‘নো হ্যান্ডশেক পলিসি’ বজায় থাকা নিয়ে মাঠের বাইরে টানটান উত্তেজনা থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জোরে ভারতই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। প্রথম ম্যাচেই এই বড় জয় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভারতীয় দলকে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *