ভ্যাপসা গরমেও আসবে না বিদ্যুতের বিল! বড় দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

ভ্যাপসা গরমেও আসবে না বিদ্যুতের বিল! বড় দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই মধ্যবিত্তের পকেটের টান কমাতে বড়সড় দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিদ্যুৎ বিলের চড়া হার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমজনতার মনে ক্ষোভ ছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে এই নিয়ে বহু আন্দোলন হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। অবশেষে এই আর্থিক বোঝা থেকে রাজ্যবাসীকে মুক্তি দিতে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব পথের হদিস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবারে নন্দীগ্রামে আয়োজিত একটি ‘জনকল্যাণ শিবির’ উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রবল গরমে বিপুল বিদ্যুতের বিলের হাত থেকে বাঁচতে একমাত্র উপায় হলো সৌরশক্তির ব্যবহার। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রের মোদি সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনার সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসালে আগামিদিনে বিদ্যুতের বিল কার্যত শূন্যে নেমে আসবে বলে দাবি তাঁর।

ভর্তুকির অঙ্ক ও আবেদনের নিয়ম

এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যবাসীকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ভারত সরকার সরাসরি সাধারণ মানুষকে ভর্তুকি দেবে। এক্ষেত্রে ১০০ ইউনিট বিদ্যুতের পরিকাঠামো তৈরির জন্য ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটের সৌর প্ল্যান্ট বসানোর জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান পাওয়া যাবে।

রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকেই এই প্রকল্পের আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ চাইলে ঘরে বসেই ‘পিএম সূর্য ঘর’ যোজনার অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে অনলাইনেও আবেদন করতে পারবেন।

উন্নয়নের নয়া দিগন্ত

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দিল্লির সমস্ত জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা এবার সরাসরি বাংলার প্রান্তিক মানুষ পাবেন। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই এবার রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মাসিক খরচে বড়সড় সাশ্রয় ঘটবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ, যাঁরা চড়া বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে গ্রীষ্মের গরমেও পাখা বা আলো জ্বালাতে দ্বিধাবোধ করতেন, তাঁরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন। অবসান ঘটবে চড়া বিদ্যুৎ বিলের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *