বদলে যাচ্ছে চেনা ‘রান্নাঘর’, কনীনিকার বিদায়ের পর শাশুড়ি সেজে আসছেন বিশ্বনাথ!

টেলিভিশনের পর্দায় প্রতিদিন দুপুরে বাঙালি ড্রয়িংরুমের অন্যতম সঙ্গী জি বাংলার ‘রান্নাঘর’। দীর্ঘ পথচলায় এই রিয়্যালিটি শোয়ের রূপরেখায় একাধিকবার বদল এসেছে। সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পর বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে এই শোয়ের সঞ্চালনার হাল ধরেছিলেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই অধ্যায়েরও অবসান ঘটতে চলেছে। দর্শকদের আরও বেশি বিনোদন দিতে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এবং নতুন মুখ নিয়ে ফিরছে এই জনপ্রিয় অন্দরমহল।
মোবাইল সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ ও কনীনিকার বিদায়
টানা দেড় বছর সাফল্যের সঙ্গে শো পরিচালনা করলেও কনীনিকার মতে, বর্তমান সময়ে দর্শকদের বিনোদন চাহিদার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। আজকাল হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনেই মুহূর্তের মধ্যে রকমারি রান্নার ভিডিও দেখে নেওয়া যায়। ফলে কেবল রান্নার রেসিপি দেখিয়ে টেলিভিশনে দর্শকদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। টিআরপির এই কঠিন লড়াইয়ের বাজারে অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা মোটের ওপর স্থিতিশীল থাকলেও, তা এক জায়গায় ধরে রাখা যাচ্ছিল না। ছোটপর্দায় দর্শকসংখ্যাই যেহেতু শেষ কথা, তাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিদায়ী সঞ্চালক।
নতুন চমকে বিনোদনের তড়কা
ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবার রান্না ও বিনোদনের এক অভিনব মিশেল আনতে চলেছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, এবার কেবল রান্নার টিপস নয়, তার সঙ্গে যোগ হবে ভরপুর হাস্যরস। আর এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ‘রান্নাঘর’-এর নতুন মুখ হিসেবে আসছেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। তবে চিরাচরিত লুকে নয়, পর্দায় তাঁকে দেখা যাবে একেবারে ভিন্ন অবতারে। শাড়ি, গয়না আর সিঁদুরে সেজে ‘শাশুড়ি মা’ রূপ ধারণ করে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই নতুন রূপের প্রোমোর শুটিংও শেষ হয়েছে।
টেলিপাড়ায় পরিবর্তনের হাওয়া
‘রান্নাঘর’-এর এই ভোলবদল আসলে ছোটপর্দার এক বড়সড় পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত। শুধু এই অনুষ্ঠানটিই নয়, জি বাংলার অন্যান্য জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো যেমন ‘দিদি নম্বর ১’ এবং ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চেও আগামী দিনে নতুন চমক ও সঞ্চালক পরিবর্তনের জোর জল্পনা চলছে টেলিপাড়ায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দর্শকদের ধরে রাখতেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই বড়সড় পরীক্ষানিরীক্ষার পথে হাঁটছে। বিশ্বনাথ বসুর এই নতুন কমেডি অবতার দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এবং ‘রান্নাঘর’-এর টিআরপি গ্রাফ কতটা উর্ধ্বমুখী হয়, এখন সেটাই দেখার।