অফিস টাইমের ভিড় থেকে মিলবে মুক্তি, শিয়ালদহ শাখায় একগুচ্ছ নতুন লোকাল ট্রেন চালু করল রেল!

শিয়ালদহ ডিভিশনের লোকাল ট্রেন মানেই নিত্যযাত্রীদের নিত্যদিনের চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে অফিস টাইমে তিল ধারণের জায়গা থাকে না ট্রেনগুলোতে। ট্রেনের তুলনায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। শিয়ালদহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বেশ কিছু ট্রেনের রুট এবং সময়সূচিতে আনা হয়েছে বড় বদল। রেলের এই নতুন উদ্যোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
একনজরে নতুন স্পেশ্যাল ট্রেনের সময়সূচি
রেল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, সোনারপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং শাখায় নতুন স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি চালানো হবে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ০৩১৪৪ সোনারপুর – ডায়মন্ড হারবার স্পেশ্যাল ট্রেনটি সোনারপুর স্টেশন থেকে সকাল ৬টা ০৫ মিনিটে ছেড়ে ডায়মন্ড হারবার পৌঁছাবে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। ফিরতি পথে ০৩১৪৩ ডায়মন্ড হারবার – শিয়ালদহ স্পেশ্যাল ট্রেনটি ডায়মন্ড হারবার থেকে সকাল ৭টা ২২ মিনিটে রওনা দিয়ে শিয়ালদহ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে।
এছাড়া শিয়ালদহ থেকে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ছাড়বে ০৩MT২২ শিয়ালদহ – সোনারপুর স্পেশ্যাল, যা সোনারপুর পৌঁছাবে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। অন্যদিকে, দুপুরের দিকে যাত্রীদের সুবিধার্থে ০৩১২১ ক্যানিং – সোনারপুর স্পেশ্যাল ট্রেনটি ক্যানিং থেকে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সোনারপুর পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে।
রুট সম্প্রসারণ ও সময়সূচির পরিবর্তন
নতুন ট্রেন চালানোর পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার্থে ৩৪৪২০ শিয়ালদহ – সোনারপুর লোকাল ট্রেনটির যাত্রাপথ ক্যানিং পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এখন থেকে ৩৪৪২০ শিয়ালদহ – ক্যানিং লোকাল হিসেবে ট্রেনটি পূর্বের নিয়মেই সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে ক্যানিং পৌঁছাবে সকাল ১১টা ০৫ মিনিটে। এর পাশাপাশি, ৩০৫১১ আপ চম্পাহাটি – মাঝেরহাট লোকাল ট্রেনটির সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে গড়িয়া ও বালিগঞ্জের মধ্যবর্তী স্টেশনগুলির জন্য এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হবে বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।
স্বস্তি ফিরবে নিত্যযাত্রীদের জীবনে
মূলত অফিস টাইমে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া এবং শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ডাউন লাইনের চাপ কমানোই রেলের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। সকালের ব্যস্ত সময়ে ডায়মন্ড হারবার বা ক্যানিং থেকে শিয়ালদহমুখী ট্রেনগুলিতে যে বাদুড়ঝোলা ভিড় হতো, নতুন স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি চালু হওয়ায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। রুট সম্প্রসারণ ও সময় পরিবর্তনের ফলে মাঝেরহাট এবং ক্যানিং লাইনের যাত্রীদের সংযোগকারী ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, যা তাঁদের দৈনিক যাতায়াতকে আরও গতিশীল ও আরামদায়ক করে তুলবে।