সপ্তাহের শুরুতেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান, এক লাফে বাড়ল রান্নার গ্যাস ও সিএনজির দাম!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/01/lpg-2026-06-01-10-04-30.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
সপ্তাহের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। একদিকে যখন সোনার বাজারে বড়সড় ওলটপালট লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের বাজারেও এসেছে বড় বদল। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তের পকেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তবে শুধু গাড়ি বা বাইকের তেলই নয়, সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে গণপরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির দাম বাড়ায় দৈনিক খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কোপ রান্নাঘর থেকে গণপরিবহণে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন থেকে ঘরোয়া ব্যবহারের ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে একধাক্কায় ২৯ টাকা। গত তিন মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ল, যা দেশজুড়ে মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেট বিগড়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি গত ১ জুন থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের সমান্তরালে সিএনজির দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করা হয়েছে, যা মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বৃদ্ধি। এমনকি পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস বা পিএনজির দামও স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার প্রতি ৫০ পয়সা বেড়ে ৫২ টাকায় পৌঁছেছে।
শুল্ক রদবদলের সিদ্ধান্ত ও বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
জ্বালানির এই লাগামহীন দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ শুল্ক কাঠামোর বড় ভূমিকা রয়েছে। অবশ্য এর মধ্যেই গত ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এক সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর ওপর রপ্তানি শুল্ক কিছুটা কমানো হয়েছে। নতুন নিয়মে সংশোধিত রপ্তানি শুল্ক পেট্রোলে ১.৫ টাকা, ডিজেলে ১৩.৫ টাকা এবং এটিএফ-এ ৯.৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই শুল্ক হ্রাসের সুফল সাধারণ ক্রেতারা কতটা পাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ক্রমাগত এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও জোরালো করবে।