ট্রাম্পের কথা মানতে নারাজ ইজরায়েল, ভেস্তে যেতে পারে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি!

ট্রাম্পের কথা মানতে নারাজ ইজরায়েল, ভেস্তে যেতে পারে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি!

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে থাকলেও ইজরায়েলের কড়া অবস্থানে তা নতুন করে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানের উপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও অর্থনীতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা জাগছে, ঠিক তখনই ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান

ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-জিভির এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক কোনও চুক্তির খাতিরে দেশের নিরাপত্তাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে ইজরায়েল আমেরিকার অধীনস্থ কোনও রাষ্ট্র নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। মূলত হেজবোল্লা ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লাগাতার হুমকির কারণেই ইজরায়েল এমন কড়া অবস্থান নিচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে বেন-জিভির দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেই ইজরায়েলকে রক্তক্ষয়ী মূল্য চোকাতে হয়েছে, তাই লেবানন বা ইরানে হামলার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার স্বার্থে স্বাধীন সিদ্ধান্তই নেবে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও চুক্তির ভবিষ্যৎ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, বাজেয়াপ্ত সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালুর বিষয়ে সমঝোতা প্রায় প্রস্তুত। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশ ইজরায়েলকে হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইজরায়েলি মন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতির আশা বড়সড় ধাক্কা খেল। ইজরায়েল যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই ভেস্তে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন তথা ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *